দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে গোয়াইনঘাটের গুলনী চা বাগানে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বাগানের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, চা শ্রমিকদের নিজস্ব ভূমির আইনি অধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কর্মীর সভাপতিত্বে এবং যুবনেতা লিটন সাঁওতালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাগানের চা শ্রমিক নেতা মিঠুন কুর্মী, যুবনেতা যতিন সিং ছত্রী, সবুজ কুর্মী, নারী চা শ্রমিক নাজমিন বেগম, মালা বিশ্বাস, গীতা মুদি ও বিনা মুদিসহ চা শ্রমিকরা।
সভাপতির বক্তব্যে গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালতে পারছে, কিন্তু দেড় লাখ চা শ্রমিক পালতে পারছে না। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় বর্তমান মজুরি দিয়ে চা শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে চা শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তাদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। প্রয়োজনে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
প্রায় দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি পূরণ না হলে সামনে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








