মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে পাওয়া গেছে দুর্লভ প্রজাতির ‘সাইবোল্ডস ওয়াটার স্নেক’। বুধবার রাতে সাপটি উদ্ধারের পর স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।
তিনি জানান, বুধবার রাতে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কুঞ্জবন গ্রামে একটি স্থানে সাপের বাচ্চাটি দেখতে পান স্থানীয়রা। দুর্লভ সাপটি দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন। পরে তিনি ও রাজদীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
উদ্ধার করা সাপটির প্রজাতি নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল খান, ড. কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের পর সাপটিকে ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে জানান স্বপন দেব সজল।
অধ্যাপক ড. মনিরুল খান বলেন, উদ্ধার হওয়া সাপটি ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’। এটি দুর্লভ ও নির্বিষ প্রজাতির জলচর সাপ। বাংলায় এ সাপের নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই। বাংলাদেশে রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে এ প্রজাতির সাপের কদাচিৎ দেখা মেলে। বাংলাদেশ ও ভারতের মিঠাপানির জলাশয়, নদী, খাল ও বিলে এদের আবাসস্থল।
তিনি বলেন, সাপটির শরীর তুলনামূলকভাবে মোটা। পিঠে কালচে বা ধূসর-বাদামি রঙের ছোপ ছোপ দাগ থাকে। মাছ ও উভচর প্রাণী, বিশেষ করে ব্যাঙ, এদের প্রধান খাবার। অধিকাংশ সময় পানিতে অথবা জলাভূমির আশপাশে এরা অবস্থান করে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধার করা সাপটির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








