বিদ্রোহী কবির সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন করবে সিসিক
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৬ AM

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের নজরুল সন্ধ্যা’

বিদ্রোহী কবির সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন করবে সিসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০১:৩৩:৫৯ AM

বিদ্রোহী কবির সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন করবে সিসিক


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি সর্বশেষ ১৯২৬ সালে সিলেটে আগমন করেছিলেন। কবির সিলেট আগমনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সিলেট সিলেট সিটি কর্পোরেশন। নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর সৃষ্টিতে থাকা মানবতা ও সাম্যের আহ্বান সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেটের উদ্যোগে বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের সম্মানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের নজরুল সন্ধ্যায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সূচিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিলেটের পুলিশ সুপার ড. মো. জাবের সাদেক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানুষের কবি। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভেদ অতিক্রম করে তিনি সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রকাশ। অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে নজরুলের প্রতিবাদী অবস্থান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর গান, কবিতা ও সাহিত্য দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন বিভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের এই চেতনাকে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নজরুলের সাহিত্য শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এর মধ্যে রয়েছে সমাজ পরিবর্তন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের মুক্তির বার্তা। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নজরুলের চিন্তা আজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেটের পুলিশের পুলিশ সুপার ড. মো. জাবের সাদেক চৌধুরী বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দর্শন একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে নজরুলের সাহিত্য অনুপ্রেরণার বড় উৎস।

জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন প্রামাণ্যচিত্রকার ও সংস্কৃতিকর্মী নিরঞ্জন দে। সাংস্কৃতিক পর্বে সিলেট ললিতকলা একাডেমির শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। সংগীত পরিচালনা করেন বিপ্রদাস ভট্টাচার্য। এরপর নৃত্যশৈলী সিলেটের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন; নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নীলাঞ্জনা যুই।

শ্রুতি সিলেটের শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন, পরিচালনায় ছিলেন সুকান্ত গুপ্ত। এরপর এমকা সিলেটের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন; নৃত্য পরিচালনা করেন শান্তনা দেবী। চারুবাকের শিল্পীদের কবিতা আবৃত্তি পরিচালনা করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য।

পরে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের শিল্পীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন বিজন রায় ও সুকোমল সেন।

বাংলাদেশ বেতার সিলেটের উপস্থাপিকা জান্নাতুল নাজমীন আশার উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক পর্বের শেষ পর্যায়ে শ্রী হিমাংশু বিশ্বাস একক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন সিলেটের  এই আয়োজনে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চেতনা তুলে ধরা হয়।

আজকের সিলেট/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর