সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট অংশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে আছে সাতটি রেলস্টেশন। জনবল সংকটের কারণে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ট্রেন না থামায় স্টেশনগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের পাঁচটি, হবিগঞ্জের একটি এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি স্টেশন রয়েছে।
দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব স্টেশনের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান রেলভূমি বিভিন্নভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সঙ্গে এসব এলাকার যাত্রীদের রেলসেবা পেতে যেতে হচ্ছে দূরের সচল স্টেশনে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে এবং বাড়ছে ভোগান্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শমশেরনগর ও কুলাউড়ার মধ্যবর্তী অংশে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা, লংলা ও ছকাপন রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের লস্করপুর এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশনও পুরোপুরি বন্ধ।
সরেজমিনে দেখা যায়, লংলা, ভাটেরা, টিলাগাঁও, ছকাপন ও মনু স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের এলাকা ঝোপজঙ্গলে ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিনের অযত্নে জায়গাগুলো নীরব ও জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশন ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোতে নেই আগের কর্মচাঞ্চল্য। কোনো কোনো স্টেশনে একাধিক রেললাইন থাকলেও সেখানে এখন ট্রেন থামে না। কোথাও নেই সিগন্যাল বাতি, আবার কোনো স্টেশনে রয়েছে মাত্র একটি লাইন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগে রেলের জমির একটি অংশও দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সরাসরি (ওয়ানওয়ে) লাইন করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একসময় এসব স্টেশন ছিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। নিয়মিত ট্রেন থামত, যাত্রী ওঠানামা করত এবং স্টেশন ঘিরে স্থানীয় জনজীবন ছিল প্রাণবন্ত। কিন্তু জনবল সংকটের অজুহাতে ধাপে ধাপে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই চিত্র বদলে গেছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, স্টেশনটি চালু না থাকায় তাদের বাসে করে দূরের গন্তব্যে যেতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনে ভ্রমণের জন্য সিলেট যেতে হয়। স্টেশনটি আবার চালু হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গতি ফিরবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।
টিলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সোলেমান আহমেদ বলেন, একসময় এই স্টেশনে নিয়মিত ট্রেন থামত। মেইল ট্রেন চালু থাকার সময়ও এখানে যাত্রাবিরতি ছিল। পরে ইঞ্জিন সংকটের কারণে ওই ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো ট্রেন এখানে থামেনি। এরপর জনবল সংকটের কথা বলে স্টেশনটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মনু স্টেশনের বাসিন্দা মাকিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো ট্রেন থামে না। এখন নামেই শুধু স্টেশন। একটি মাত্র লাইন রয়েছে, নেই সিগন্যাল বাতিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। ট্রেন না চলায় অনেকে রেলের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। তবে এসব জায়গা দখলমুক্ত করতে কোনো উচ্ছেদ অভিযানও দেখা যায় না।
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় জানান, আখাউড়া-সিলেট রেলপথে বেশ কয়েকটি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এগুলো বি ক্যাটাগরির স্টেশন। জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এগুলো বন্ধ রয়েছে বলে তারা শুনেছেন। কিছু স্টেশনে সিগন্যাল বাতি ও রেললাইনেও সমস্যা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ স্টেশনগুলো চালু হবে, সে বিষয়ে তাদের জানা নেই।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের বেশ কিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








