জাফলংয়ের ইসিএ এলাকায় রাতের আঁধারে বালু-পাথর হরিলুট
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ PM

চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা

জাফলংয়ের ইসিএ এলাকায় রাতের আঁধারে বালু-পাথর হরিলুট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৮/২০২৬ ১০:৫৯:৩২ AM

জাফলংয়ের ইসিএ এলাকায় রাতের আঁধারে বালু-পাথর হরিলুট


পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) এলাকা হিসেবে চিহিৃত করা কয়েছে সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা জাফলং। কিন্তু এই জাফলংয়েই রাতের আধারে চলছে বালু ও পাথর হরিলুট। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ শুরু করেছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি।

সরেজমিন দেখা যায়, জফলংয়ের বাল্লাঘাট নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এর নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এলাকাবাসী, শ্রমিক, নৌকা মালিক ও পরিবহন সংক্রীত্ত্বদের অভিযোগ, দীর্ঘাদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ইসিএ এলাকা থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করে আসছে এবং এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন যানবাহন নৌযান থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাল্লাঘাট নদীর বিভিন্ন অংশে বোমা মেশিন ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নৌকাযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট স্টক পয়েন্টে। আর এই সুযোগ নিয়ে পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র ড্রেজার মেশিন, বোমা মেশিন ও নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করছে। বালু ও পাথর বহনকারী প্রতিটি যানবাহন থেকে প্রকারভেদে গাড়ি থেকে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আর ড্রেজার ও বোমা মেশিন থেকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাল্লাঘাট বালু-পাথর উত্তোলন সংগঠনের সভাপতি দেলদুয়ার হোসেন দিলুর নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী শাহজাহান ও হারুন মেম্বার।

বিভিন্ন কারনে জাফলং পরিবেশের দিক দিয়ে একটি অতিসংকটাপন্ন এলাকাকা। কারন এখানেই রয়েছে ডাউকি ফল্ট। যেকোন সময়ে এই ফল্ট থেকে ৫-৭ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে সিলেটি বিলিন হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিন থেকে এখানে বোমা মেশিন দিয়ে মাটির গভীর থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে নিচের টেকটোনিক প্লেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে ভুমিকম্পের ঝুঁকি প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পরিবেশবিধরা মনে করছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্পুর্থ পর্যটন ও পরিবেশগত এলাকা। নদী থেকে অবৈধভারে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এতে পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু ও পাথরখেকু চক্র।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলদুয়ার হোসেন দিলু বলেন, পাথর উঠানো হয় না। পাথর মাদকের চেয়েও কঠিন হয়ে পরেছে। আমাদের এখানে পাতর উঠে না এটা ভুল তথ্য। বালু উত্তোলেনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে বালু উত্তোলন হয়। আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার পরে আছে। এরা রাতের আধাঁরে ২/৪ ট্রাক বালু তুলে তা দিয়ে জীবন যাপন পাড় করছে। তবে পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা তুলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নাই। এটার বিষয়ে আমি অবগত নয়।  

অভিযুক্ত হারুন মেম্বার বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। আমি ছোট খাট একজন ব্যবসায়ী সময় সুযোগ বুঝে ব্যবসা করি। নদির পাড়ে আমি যাই না এক সাপ্তাহের উপরে।

তবে পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা তুলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই ধরনের কোনো কিছুতে জড়িত না। আমার নামে মিথ্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আর অভিযুক্ত শাহজাহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বালু ও পাথর উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে অবগত নয় আমি। আমার কাছে এ ধরণের তথ্য আসে নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আজকের সিলেট/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর