এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে, কুলাউড়ায় সংঘর্ষে আহত ১০
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ PM

এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে, কুলাউড়ায় সংঘর্ষে আহত ১০

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০৩:৫৩:২৭ PM

এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে, কুলাউড়ায় সংঘর্ষে আহত ১০


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াও রয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর চারজন হলেন, এনসিপি নেতা তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়া। সংঘর্ষে আহতদের কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, দলীয় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে কেন্দ্র করে এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশ খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনায় এনসিপি নেতা ও জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তামিম আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এহসান জাকারিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তামিমের অভিযোগ

মামলার বাদী তামিম আহমদের অভিযোগ, এনসিপির বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেওয়ার কথা বলে এহসান জাকারিয়াসহ আসামিরা তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর পর মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা যাওয়ার পথে কুলাউড়ার উত্তর বাজার এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সদর থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। কুলাউড়া উত্তর বাজারের রেলক্রসিংয়ের কাছে একটি হোটেলের সামনে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এ সময় জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই হামলায় তামিম আহমদ, সাফওয়ানসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা পাঁচজনকে আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তুলে দেন।

পাল্টা অভিযোগ জেলা আহ্বায়কের

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ। তাঁর দাবি, দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা থেকে কুলাউড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁকে বিদায় জানাতে এহসান জাকারিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান।

খালেদ আহমদ বলেন, উত্তর বাজারের রেলক্রসিং এলাকার একটি হোটেলে খাওয়া শেষে কয়েকজন নেতা বের হওয়ার সময় পদবঞ্চিত তামিম আহমদসহ একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচ নেতা আহত হন। পরে তাঁদের জিম্মি অবস্থায় পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে এই চক্র কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে মৌলভীবাজারে হামলা করেছিল। পরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

খালেদ আহমদের ভাষ্য, এবারও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ অন্যদের ওপর হামলার পর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের মামলা নেয়নি। তাঁরা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পদ দেওয়ার নামে টাকা দাবির অভিযোগ তামিমের

অন্যদিকে, তামিম আহমদের দাবি, এহসান জাকারিয়া এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতার ‘সোর্স’ হিসেবে বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতেন। তাঁরসহ কয়েকজনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।

তামিম বলেন, টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে মৌলভীবাজারের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে বড়লেখায় পৌঁছে দিতে কুলাউড়ায় এলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের তদন্তেই এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, এনসিপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর