বছরের মাঝপথেও বাড়ছে শিক্ষা উপকরণের দাম, চাপে সিলেটের অভিভাবকরা
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ PM

বছরের মাঝপথেও বাড়ছে শিক্ষা উপকরণের দাম, চাপে সিলেটের অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০৪:০২:৪৫ PM

বছরের মাঝপথেও বাড়ছে শিক্ষা উপকরণের দাম, চাপে সিলেটের অভিভাবকরা


নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে খাতা-কলমের দাম বাড়ার ঘটনা প্রতিবছরই দেখা যায়। তবে এবার বছরের মাঝামাঝি এসেও শিক্ষা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সিলেটে। কলম, খাতা, পেনসিল, জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বাড়লেও ব্যবসায়ীদের দাবি, সব পণ্যের দাম বাড়েনি; কোনো কোনো খাতার দাম আগের তুলনায় কমেছে।

নগরীর বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকার বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মান ও দোকানভেদে শিক্ষা উপকরণের দামে পার্থক্য রয়েছে। তবে কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

পাইকারি বাজারে ৫ টাকার ম্যাটাডোর কলম এখন ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে একই কলমের দাম ১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাগজের মূল্য, পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং বাজারের চাহিদার ওপর শিক্ষা উপকরণের দাম নির্ভর করে। সাধারণত শিক্ষাবর্ষের শুরুতে চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। কিন্তু এবার বছরের মাঝামাঝি সময়েও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

পাইকারি বাজারের তথ্য অনুযায়ী, অফসেট ৬৫ গ্রাম ওজনের কাগজের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা, ৮০ গ্রামের কাগজ ৪০০ টাকা এবং ১০০ গ্রামের কাগজ ৫৪০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা জানান, বছর খানেকের ব্যবধানে প্রতি প্যাকেট কাগজের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া সিলেটের পাইকারি বাজারে মানভেদে প্রতিটি ইরেজার ১০-১৫ টাকা, পেনসিল ১০-২০ টাকা, স্টেপলার পিন বক্স ১৭০-৪৫০ টাকা, স্টেপলার মেশিন ১৮০-২২০ টাকা, জ্যামিতি বক্স ৭৫-১৫০ টাকা, প্রতি রিম কাগজ ৩৭০-৫৪০ টাকা এবং কালার পেনসিল বক্স ১৩০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কুয়ারপাড় এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী মাহমুদ খান বলেন, আগে যে ধরনের খাতা ১৫ টাকা দরে বিক্রি করতেন, এখন সেগুলো ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

লালদিঘীরপাড় এলাকার আল করিম প্লাজার নাজির এন্টারপ্রাইজের মালিক সাকিব আহমদ বলেন, কলম ও অফসেট কাগজের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তাঁর দোকানে ৫ টাকার ম্যাটাডোর কলম এখন ৭ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়েনি; আগের তুলনায় কিছু খাতার দাম কমেছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শিক্ষা উপকরণের মূল্য নির্ধারণে কাগজের দাম, পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হয়।

তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, সন্তানদের জন্য একসঙ্গে খাতা, কলম, পেনসিল ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে গিয়ে মোট ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।

রুহুল আমীন নামে এক অভিভাবক বলেন, একসঙ্গে অনেকগুলো খাতা, কলম, পেনসিল ও অন্যান্য জিনিস কিনতে হয়। আলাদা করে কোনো একটি পণ্যের দাম খুব বেশি মনে না হলেও সব মিলিয়ে খরচ অনেক হয়ে যায়।

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া হোসেনের অভিযোগ, ৫ টাকা দামে এখন আর দোকানে একটি কলমও পাওয়া যায় না। তাঁর দাবি, নীরবে শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে।

নিত্যপণ্যের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বছরের মাঝপথে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যয় আরও বাড়ছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দাম বৃদ্ধির যে চাপ দেখা যায়, এবার তার রেশ মাঝামাঝি সময়েও কাটেনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর