সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে দুই পাড়ে মানুষের ঢল
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৫ PM

সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে দুই পাড়ে মানুষের ঢল

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০৪:৫৫:৫৫ PM

সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে দুই পাড়ে মানুষের ঢল


বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। ‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তিকে ঘিরে সম্প্রতি তৈরি হওয়া জটিলতার পরও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজনটি হচ্ছে। প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

বিয়ানীবাজার উপজেলার ১১ নম্বর লাউতা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম এলাকায় সুনাই নদীতে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন।

প্রবীন মুর্শেদ ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ তাদের এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খেলা। এই ঐতিহ্য উপভোগ করতেই তিনি এসেছেন। গ্রামের মানুষ এ ধরনের আয়োজনে আনন্দ পান উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রতিবছর নৌকাবাইচ আয়োজনের আহ্বান জানান।

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে গেল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। তবে সমঝোতার অন্যতম শর্ত হিসেবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন।

এর আগে গেল শনিবার এশার নামাজের পর বারইগ্রাম বাজারের পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র নিচতলায় নৌকাবাইচ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনায় নৌকাবাইচ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি, স্থানীয় মানুষের মতামত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা কীভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, লাউতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দীন, জাসাস বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবক আব্দুল ওয়াহাব, লাউতা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও লাউতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এনাম উদ্দিন দিলাল, আব্দুল মালিক ও খালেদ আহমদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুব সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সভায় বক্তারা বলেন, নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্যের কারণে যেন এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমেই স্থানীয় যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও তারা মত দেন।

তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমী এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে ছিলেন না। চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে তারা সমঝোতায় মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে প্রতিবাদ করার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এ নিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর