বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ সেতুর নির্মাণে অনিশ্চয়তা; বাড়ছে জনদুর্ভোগ
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ PM

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ সেতুর নির্মাণে অনিশ্চয়তা; বাড়ছে জনদুর্ভোগ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৮/২০২৬ ০৩:০৫:৩১ PM

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ সেতুর নির্মাণে অনিশ্চয়তা; বাড়ছে জনদুর্ভোগ


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু ও শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে থাকায় সেতুগুলোর ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচটি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এগুলো হলো, কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলী ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ সেতু এবং মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের সেতু।

প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। তবে গত ৩০ জুন নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও নির্মাণকাজে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চলতি জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেতুগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। টেন্ডার হওয়ার পর এলাকাবাসী দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু না হয়ে উল্টো কার্যাদেশ বাতিল হওয়ায় মানুষের হতাশা আরও বেড়েছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও গ্রামের সদস্য নুরুল হক বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ঘোষগাঁও সেতু ও শিবগঞ্জ সড়কের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়েও কেউ নিশ্চিত নন। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হবে।

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুগুলো নির্মিত না হওয়ায় ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ঠিকাদার নিয়োগের পর থেকেই কাজ শুরুর জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিধি অনুযায়ী তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যে প্রকল্পের আওতায় সেতুগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হবে। এত স্বল্প সময়ে ওই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তাই নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর