সুনামগঞ্জে হাওরের বুকে দৃষ্টিনন্দন ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ AM

সুনামগঞ্জে হাওরের বুকে দৃষ্টিনন্দন ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’

আমিনুল হক খোকন

প্রকাশিত: ৩০/০৭/২০২৬ ০৩:৫৬:৪০ PM

সুনামগঞ্জে হাওরের বুকে দৃষ্টিনন্দন ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’

ছবিঃ আজকের সিলেট


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কিং পয়েন্ট এলাকায় হালির হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’। 

হাওরের জলরাশির ওপর নির্মিত এই ভাসমান পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকেই ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এই পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

গত ১৭ জুলাই শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকেই পার্কটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পার্ককে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কিছু দোকানপাট, যা স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

রাজাপুর গ্রামের নয়জন তরুণ উদ্যোক্তা মিলে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে পানির ওপর বাঁশের খুঁটি ও কাঠের পাটাতন দিয়ে এই ভাসমান পার্কটি নির্মাণ করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।

উদ্যোক্তাদের একজন সুদীপ্ত তালুকদার জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় হাওরের পানির ওপর এটিই একমাত্র ভাসমান পার্ক। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের বিনোদন ও সেবা নিশ্চিত করা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ আতিথেয়তা প্রদানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পার্কটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

পার্কে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি নান্দনিক গোলঘর, যেখানে রয়েছে চেয়ার-টেবিলের সুব্যবস্থা। এ ছাড়া পার্কের মূল কাঠামোর একটু সামনে পানির ওপর আরও দুটি গোলঘর তৈরি করা হয়েছে, যেগুলোতে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয় প্লাস্টিক বোট বা নৌকা। সেখানে বসে হাওরের খোলা হাওয়া ও চারপাশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।

পার্কে আগত দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে রেস্টুরেন্ট সুবিধা। সেখানে সিঙ্গারা, নুডলস, কফি, লাচ্ছি, ফুচকাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি পার্টি সেন্টার, পরিচালকের কক্ষ, রান্নাঘর ও আধুনিক টয়লেটের ব্যবস্থাও রয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে আসা দুবাই প্রবাসী আলাল মিয়া বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। এখানকার পরিবেশ দারুণ লেগেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামার পর পার্কের চমৎকার আলোকসজ্জা দূর থেকেই সবাইকে বিমোহিত করে।”

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুজাত মিয়া বলেন, “ফেসবুকে পার্কটির প্রশংসা শুনে পরিবার নিয়ে এসেছিলাম। কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং চারপাশের পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। প্রায় এক ঘণ্টা প্লাস্টিকের বোটে ঘুরে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।

তিন দিক থেকে পানি আর একদিকে সড়ক—এমন এক মনোরম ভৌগোলিক অবস্থানে গড়ে ওঠা ‘ভ্রমণ বিলাস পার্ক’ ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের পর্যটন তালিকায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ছুটির দিনে বা বিকেলে মন জুড়ানো প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন এই ভাসমান পার্ক থেকে।

SUNAMGANJ

সিলেটজুড়ে


মহানগর