বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ৯: দুই বছরেও বিচারের দেখা নেই
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ AM

বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ৯: দুই বছরেও বিচারের দেখা নেই

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৮/২০২৬ ১১:১৩:০৪ AM

বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে  নিহত ৯: দুই বছরেও বিচারের দেখা নেই


হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত ৯ ছাত্র-জনতার হত্যা মামলার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের ধীরগতি, এজাহারভুক্ত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামির গ্রেপ্তার না হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন এবং স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বানিয়াচং উপজেলার সাগরদিঘীর পশ্চিমপাড় ঈদগাহ মাঠ থেকে ছাত্র-জনতার একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি বড়বাজার শহীদ মিনার হয়ে থানার দিকে যাওয়ার পথে ঈদগাহ এলাকায় পৌঁছালে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) পলাশ রঞ্জন দে এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে বাধা দেয়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই শিশুসহ সাতজন নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

ঘটনার পর নিহত শিশু হাসান মিয়ার বাবা মো. ছানু মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন রুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১৬০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত, প্রাথমিক তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো মূল আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচারিক শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান মিয়া, ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এবং বানিয়াচং থানার সাবেক ওসি দেলোয়ার হোসেন।

নিহতদের এক স্বজন বলেন, আমাদের সন্তানেরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু দুই বছর পার হলেও আমরা এখনো খুনিদের বিচারের মুখোমুখি হতে দেখিনি। কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

এদিকে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সচেতন নাগরিকরা মামলাটি দ্রুত বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন রুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মন্দুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শামছুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাহ নেওয়াজসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত দ্রুত শেষ করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে, যাতে নিহতদের পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার পেতে পারে।

আজকের সিলেট/ এনএন/জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর