বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে মন্টিনেগ্রো। দেশটির সংসদ সদস্য গর্ডান স্তোজোভিচ জানিয়েছেন, পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে সরকারি পর্যায়ের (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মন্টিনেগ্রোর সংসদ সদস্য গর্ডান স্তোজোভিচ। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় দুই দেশের সংসদীয় যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন, দ্বিপাক্ষিক প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন উভয় পক্ষ।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন তারা। মন্টিনেগ্রোকে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে উল্লেখ করে গর্ডান স্তোজোভিচ বলেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি করতে পারে তাঁর দেশ। একই সঙ্গে বাণিজ্যকে আরও বহুমুখী করার এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে বৈঠকে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি কৃষি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাবার, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে বিশেষ সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর রাজনৈতিক নেতা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যটনে মন্টিনেগ্রোর অবস্থান তুলে ধরে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকের আরেকটি বড় অংশজুড়ে ছিল শ্রমবাজার ও জনশক্তি বিনিময়ের বিষয়টি। শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, নির্মাণ শ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপুল দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জবাবে গর্ডান স্তোজোভিচ জানান, মন্টিনেগ্রোতে প্রতি বছর ৫০ হাজারেরও বেশি বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। দেশটির পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি করার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
দুই পক্ষই ওয়ার্ক পারমিটের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রম গতিশীলতা চুক্তির মাধ্যমে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
এর পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানবীয় গতিশীলতা ও অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্টিনেগ্রোর আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে আসে। বাল্টিক অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে দেশটির সংযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার এখনো অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন উভয় পক্ষ।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









