শরতের সাদায় বদলে গেছে জাফলং, কাশফুলে মুগ্ধ পর্যটকেরা
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ AM

শরতের সাদায় বদলে গেছে জাফলং, কাশফুলে মুগ্ধ পর্যটকেরা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ২৬/০৯/২০২৬ ১০:৩৩:৩৯ AM

শরতের সাদায় বদলে গেছে জাফলং, কাশফুলে মুগ্ধ পর্যটকেরা


শরতের সাদা কাশফুলে যেন নতুন করে সেজেছে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। পাথরের রুক্ষতা, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলরাশি আর খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের সবুজের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ কাশবন। প্রকৃতির এই ভিন্ন সাজে জাফলংয়ের পরিচিত দৃশ্যপট পেয়েছে নতুন এক স্নিগ্ধতা। সেই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক।

জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর বুকে জেগে ওঠা চর আর পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা শুভ্র কাশফুল দূর থেকেই নজর কাড়ছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নিচে পাথরের বুক চিরে জেগে ওঠা কাশবন প্রকৃতির এমন মেলবন্ধনে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল যেন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে।

খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশের এই নৈসর্গিক পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিনই জাফলংয়ে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। বিশেষ করে শরতের কাশফুল পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আকর্ষণ। পাথুরে ভূমির সঙ্গে শুভ্র কাশবনের বৈপরীত্য তৈরি করেছে ছবি তোলার জন্যও দারুণ এক প্রাকৃতিক পটভূমি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক রাইয়ান আহমেদ বলেন, “জাফলংয়ে এর আগেও এসেছি, কিন্তু শরতের এই রূপ আগে কখনো দেখিনি। পাথরের রুক্ষতার মাঝে কাশফুলের এমন শুভ্রতা আর কোমলতা সত্যিই অভাবনীয়। মনে হচ্ছে যেন কোনো এক স্বপ্নের রাজ্যে এসে পড়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “শহরের যান্ত্রিকতা আর যানজটের ক্লান্তি দূর করতে এই জায়গাটি একদম পারফেক্ট। পাহাড়, নদী আর কাশবনের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি তোলার মজাই আলাদা। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দারুণ সময় কাটছে।”

পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে জাফলং জিরো পয়েন্টের পরিবেশও এখন বেশ প্রাণবন্ত। একই সঙ্গে বেড়েছে স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের ব্যস্ততা। শরতের সৌন্দর্যকে ক্যামেরায় ধরে রাখতে অনেকেই তাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

স্থানীয় ফটোগ্রাফাররা জানান, “শরতের এই সময়টায় নদীতে পানি একটু কম থাকলেও কাশবনের কারণে পর্যটকরে পদচারণায় মুখরিত জাফলং জিরো পয়েন্ট।”

পরিবার-পরিজন নিয়ে জাফলংয়ে বেড়াতে আসা প্রবাসী হায়দার চৌধুরী বলেন, পাথুরে বুকে শরতের কাশফুলের এই কোমল পরশ প্রকৃতির এক অদ্ভুত মোহ তৈরি করেছে। একদিকে পাহাড় ও পাথরের বিশালতা, অন্যদিকে কাশফুলের স্নিগ্ধতা সব মিলিয়ে জাফলং এখন পর্যটকদের কাছে এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

শরতের এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য বেশিদিন থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কাশফুলের এই সাদা মায়া দেখতে আগামী কয়েক সপ্তাহ জাফলংয়ে পর্যটকদের এই ভিড় অব্যাহত থাকবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর