সিলেট ও সিলেটি নারী নিয়ে মন্তব্য, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ঘিরে ক্ষোভ
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ PM

সিলেট ও সিলেটি নারী নিয়ে মন্তব্য, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ঘিরে ক্ষোভ

শাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০৭:৫৮:২১ PM

সিলেট ও সিলেটি নারী নিয়ে মন্তব্য, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ঘিরে ক্ষোভ


সিলেট, সিলেটি নারী ও স্থানীয় ভাষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক আপত্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আইপিই বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী ইউসুফ ওমর সালেকিনের বিরুদ্ধে। তার ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি শাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সিলেটি নারীদের উদ্দেশে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। একই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি সিলেটের মানুষ ও স্থানীয় সংস্কৃতি নিয়েও কটূক্তি করেন। সিলেটিদের ‘অহংকারী’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাঙালি পরিচয়ের পরিবর্তে ‘সিলেটি’ পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া সিলেটের শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় মানসিকতা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে সিলেটের ওপর ‘পারমাণবিক বোমা’ ফেলার ইচ্ছা প্রকাশের অভিযোগও ওঠে। এসব মন্তব্যকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।

পরে ওই পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সামাজিক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয় ও ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকে বিষয়টিকে একটি জনগোষ্ঠী ও নারী সমাজের প্রতি অবমাননাকর এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তীব্র সমালোচনার মুখে পরে নতুন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ইউসুফ ওমর সালেকিন। সেখানে নিজের বক্তব্য ভুল ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এর আগে, প্রায় এক মাস আগেও শাবিপ্রবির আরেক শিক্ষার্থীর ফেসবুকে সিলেটি ভাষা নিয়ে কটু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। পরে ওই শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে এলো।

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম বলেন, "শাবিপ্রবি সিলেটের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। এখানে দেশের সব অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। একেক অঞ্চলের একেক ধরনের ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে একের পর এক সিলেটকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য না এবং আমরা এটা সবসময় মেনে নিবো না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর শাস্তি আরোপ করুক যেন এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।"

তিনি আরও বলেন, "যদি স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে কোনো ঝামেলা সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে উস্কানিদাতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।"

অভিযোগের বিষয়ে আইপিই বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান বলেন, "এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা কখনো আশাকরি না। একের পর এক এই ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের সাথে আমাদের শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হবার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই কোনো শিক্ষার্থীকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করা ঠিক না।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ছাত্র উপদেষ্টাকে জানিয়েছি। তিনি প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করেছেন। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডি দেখবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান বলেন, "বিষয়টি খুবই সিরিয়াস। আমরা ইতিমধ্যে বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার। নিয়ম অনুযায়ী বশবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর