মাধবপুরে এলপিজি সংকট, ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ PM

মাধবপুরে এলপিজি সংকট, ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০

শেখ ইমন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০৩:১৮:৪৫ PM

মাধবপুরে এলপিজি সংকট, ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০


হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রায় ২০ দিন ধরে চলছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সিলিন্ডার মিলছে না। আবার কোথাও পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। কোনো কোনো স্থানে দাম উঠছে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই। কিছু দোকানে অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটছেন গ্রাহকেরা।

দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকে গ্যাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মাধবপুরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, “তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালিয়ে এত বেশি দামে গ্যাস কেনা কঠিন।”

আরেক গ্রাহক কামাল মিয়া বলেন, “আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজার পর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম চাওয়া হচ্ছে।”

তবে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছেন না। ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হচ্ছে।

মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, “কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।”

ডিলারদের পক্ষ থেকেও চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানির কাছ থেকে সরবরাহ না পাওয়াকে সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মাধবপুরের হাজারো গ্রাহকের রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি নিয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর