বৈধ ভারতীয় ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের আইনগত অধিকার নিশ্চিত হয় না এক মামলার রায়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা আবেদনের শুনানি শেষে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি অমিত মহাজন এ রায় দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিসা ইস্যু করা এবং ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া একই বিষয় নয়। জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, পররাষ্ট্রনীতি, জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধ ভিসাধারী কোনো বিদেশিকেও দেশে প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি করেন তুর্কমেনিস্তানের নাগরিক আন্নাগুরবানোভা ইয়াজবিবি। তার দাবি, বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। তবে একই বিমানে থাকা তার স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তার ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে দেশে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে পরে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই নারী। তার অভিযোগ ছিল, বৈধ ভিসা থাকার পরও তাকে কেন ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি।
মামলার শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, বৈধ ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের ‘অবিচ্ছেদ্য’ বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার দাবি করতে পারেন না। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিসা প্রদান এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দুটি পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
সরকার আরও জানায়, কোনো বিদেশি নাগরিক সীমান্তে পৌঁছালে অভিবাসন কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও ভিসা পরীক্ষা করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন। ওই নারীর ক্ষেত্রে কিছু ‘প্রতিকূল তথ্য’ পাওয়ার কথা আদালতকে জানানো হয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়।
আদালতে ওই নারীর আগের ভারত সফরের তথ্যও তুলে ধরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। এসব সফরের অধিকাংশই ছিল এক থেকে তিন দিনের। এসব ভ্রমণে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।
সরকারের দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আরও কিছু অসঙ্গতির উল্লেখ করে। সেখানে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসামঞ্জস্যের কথা বলা হয়। ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা কোনো আমন্ত্রণপত্র ছিল না বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়। নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি বলে আদালতের নথিতে উঠে আসে।
এ ছাড়া ব্যবসায়িক ভিসার জন্য আবেদন করার সময় নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেয়।
রায়ে বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য স্বাভাবিক বা আইনগত অধিকার নয়। বরং বিদেশিদের প্রবেশের বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার আওতাভুক্ত।
আদালত আরও বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্যের ভিত্তিতে সক্ষম কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিচারিক পর্যালোচনার সময় আদালত সাধারণত সেই কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নকে নিজের সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে না।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








