সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, দেশে ফেরার আকুতি রেহেনার
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ PM

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, দেশে ফেরার আকুতি রেহেনার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০৯:২৭:৫০ AM

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, দেশে ফেরার আকুতি রেহেনার


অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা রেহেনা গোপনে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রেহেনা তার অবস্থানের একটি ভিডিও ও লোকেশন গোপনে সাংবাদিকদের কাছে পাঠান। ভিডিওবার্তায় তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এবং নানা ধরনের চাপ ও কষ্টের মধ্যে আছেন।

রেহেনা বলেন, আমি খুবই অসুস্থ, মনে হয় বাঁচব না। বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। আমি সরকারের কাছে আকুতি জানাই, আমাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।

পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই রেহেনাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগের সুযোগও তাকে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের।

দেশে ফিরে আসতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।

পরিবারের দাবি, রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে গিয়াস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জড়িত। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামে।

অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু খরচাপাতি দিলে রেহেনাকে দেশে আনিয়ে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, সৌদি আরব গেলেই তো আসা যায় না।

তবে রেহেনা নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকার ফকিরাপুলের সংশ্লিষ্ট ক্রিয়েটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া। তিনি বলেন, ওই নারী কোনো নির্যাতনের শিকার নন। দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্টদের খরচ দিতে হবে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাদের কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই গ্রামের জোসনা আক্তার নামে এক সৌদি নারীকর্মীর সঙ্গে অন্যায়ের অভিযোগে সম্প্রতি রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের লাইসেন্স বাতিল করেছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এদিকে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তার স্বামী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, যেহেতু আমাদের কাছে আবেদন এসেছে, আমরা সেটি বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখব। উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করব।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর