কৃষকদের সম্মানে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ PM

কৃষকদের সম্মানে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৯/২০২৬ ০৯:২৬:৩৬ AM

কৃষকদের সম্মানে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ


কৃষকদের দেশের ‘আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ’ এবং দেশ গড়ার যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও নতুন উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিতে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

রাষ্ট্রপতি দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম ও শ্রমের পাশাপাশি নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত, কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের কারণে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যেন সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, নতুন একটি স্কিম চালু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অচিরেই কৃষকেরা এসব পদক্ষেপের সুফল পাবেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতির জন্য কৃষক দিবস পালন ও জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্য বীমা চালু, জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ খাতে সম্ভাবনাও অনেক। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। কৃষিঋণের সুদ, বিশেষ করে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তর ঊর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর