সিলেটে তথ্য অধিকার দিবসে অপতথ্য রোধে সচেতনতার তাগিদ
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ PM

সিলেটে তথ্য অধিকার দিবসে অপতথ্য রোধে সচেতনতার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮/০৯/২০২৬ ১২:৫৯:৫৭ PM

সিলেটে তথ্য অধিকার দিবসে অপতথ্য রোধে সচেতনতার তাগিদ


ডিজিটাল সময়ে তথ্যের সহজলভ্যতার পাশাপাশি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬।

‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে সোমবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, ভুল তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে পড়াকে মিসইনফরমেশন এবং কাউকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোকে ডিসইনফরমেশন বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া সরকারি চিঠিসহ বিভিন্ন ধরনের fabricated information ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ঠেকাতে তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর পাশাপাশি সরকারি তথ্য প্রকাশ ও গোপনীয়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও সংশ্লিষ্টদের জানা প্রয়োজন। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এবং Official Secrets Act, 1923-এর বিধানগুলো পারস্পরিকভাবে পর্যালোচনা করে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য, তা স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য সহজে দৃশ্যমান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে সম্ভব হলে নির্দিষ্ট অফিসিয়াল ফোন নম্বর চালু রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় তথ্যের সঠিক ব্যবহার ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রকাশের চর্চা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার এবং অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/বিএন/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর