চুল পড়ার সমস্যা শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন ধারণা এখন আর ঠিক নয়। জেন-জির পূর্বপ্রজন্ম মিলেনিয়ালদের কাছে চুল পেকে যাওয়া, ঘনত্ব কমে যাওয়া কিংবা মাথার নির্দিষ্ট অংশ পাতলা হয়ে যাওয়াকে সাধারণত বয়সের স্বাভাবিক প্রভাব হিসেবেই দেখা হতো। তবে বর্তমান সময়ে ২০-এর কোঠায় থাকা তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও চুলের ভলিউম কমে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়া এবং চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
এ কারণে পূর্বপ্রজন্মের তুলনায় ত্বক ও চুলের যত্নে জেন জির আগ্রহও বেশি। চুল পড়া ঠেকাতে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের দিকেও তাদের ঝোঁক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে শুধু চুলের পরিচর্যার ঘাটতি নয়, জীবনযাপন ও শারীরিক বিভিন্ন কারণও দায়ী হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রায় কাজ ও পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি আর্থিক দুশ্চিন্তা, চাকরির চাপ এবং দীর্ঘসময় অনলাইনে থাকার অভ্যাসও যুক্ত হয়েছে। এসব কারণে শরীরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপের প্রভাব চুলেও পড়তে পারে। আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন জির ওপর এ ধরনের চাপের প্রভাব বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।
তীব্র মানসিক চাপের কারণে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ হতে পারে। এ অবস্থায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুলের ফলিকল দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র মানসিক চাপের পর টেলোজেন এফ্লুভিয়াম দেখা দিতে পারে।
তাই চুল পড়া কমাতে শুধু বিভিন্ন প্রসাধনী বা চুলের পরিচর্যার দিকে নজর দিলেই হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রায় কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে কারণ
দ্রুত ওজন কমানোর প্রবণতা কিংবা ক্র্যাশ ডায়েটের কারণেও চুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চুল
চুল পড়ার প্রতিটি সমস্যার কারণ যে দুর্বল ফলিকল, তা নয়। অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ের কারণেও চুল স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি হারাতে পারে।
নিয়মিত হিট স্টাইলিং, ব্লিচ বা বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার, ঘন ঘন চুলে রং করা, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা কিংবা হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে স্লিকড-ব্যাক হেয়ারস্টাইল এবং নিয়মিত স্ট্রেটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহারের ফলে চুল মাঝখান কিংবা ডগা থেকে ভেঙে যেতে পারে।
আরও যেসব কারণে চুল পড়তে পারে
চুল পড়ার পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকের সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত কারণ। পাশাপাশি ভুল প্রসাধনী ব্যবহার ও কেমিক্যালের অতিরিক্ত প্রয়োগও চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, কম বয়সে চুল পড়ার সমস্যাকে শুধু বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, অতিরিক্ত স্টাইলিংসহ একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবেও তরুণ বয়সে চুলের ঘনত্ব ও স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে পারে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








