চুরির অভিযোগে সালিশ, পরদিন ঘরের বারান্দায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ AM

চুরির অভিযোগে সালিশ, পরদিন ঘরের বারান্দায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০২৬ ১০:২৩:৫১ AM

চুরির অভিযোগে সালিশ, পরদিন ঘরের বারান্দায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ


সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে এমরান হোসেন (২৩) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিজ বাড়ির ঘরের বারান্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত এমরান উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, চুরির অপবাদে আগের রাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সালিশ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এমরান। সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বারান্দার বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি  ঘটনাস্থলে আছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানি তোড়া মোটর ও কিছু ইলেক্ট্রিকের তার চুরি হয়। পরে চার মিয়ার ছেলে আবুল ফজল বিষয়টি এমরান হোসেন ও একই গ্রামের আরেক যুবক নিলু মিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে স্থানীয় গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলীর অফিসে সালিশ বসে।

এমরানের ছোট ভাই তুহিন হোসেন মুঠোফোনে জানান, তারা দুই ভাই ও এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। দুই ভাইই রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তার দাবি, সালিশের পর এমরান বিষয়টি নিয়ে খুব ভেঙে পড়েছিলেন।

এমরানের বাবা আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিশে সাক্ষী হিসেবে যাদের কথা বলা হয়েছিল, তারা চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। এরপরও চেয়ারম্যান ও চান মিয়া মিলে তার ছেলের ওপর চুরির দায় চাপান। এ সময় তার স্ত্রী সাহার বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবদুল হাসিম বলেন, সালিশে সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। অন্যথায় চুরির অভিযোগে তাদের পুলিশে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তার দাবি, সালিশে নিজের ও মা-বাবার অপমান সহ্য করতে না পেরে এমরান রাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, পরিবারের সবাই রাতে এমরানকে অনেক বুঝিয়েছেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা ঘরের বারান্দায় রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় এমরানের মরদেহ দেখতে পান।

আবদুল হাসিমের অভিযোগ, ‘এমরান আমার সোনার ছেলে। কাজকাম করে খায়। কেউ থাকে কোনোদিন অন্যায় কাজে পায়নি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ তোলা হয়েছে। চেয়ারম্যান সালিশে আমরা সবাইরে অপমান করছে। এর লাগিই ছেলেটা মরছে। আমি বিচার চাই।’

তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, সালিশে এমরান কিংবা তার পরিবারের কাউকে তিনি কোনো হুমকি-ধমকি দেননি। তাদের আত্মীয়দের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, এমরান প্রচুর ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সোমবার তাদের পরিবারের ওই ঝামেলা নিয়ে আবার বসার কথা ছিল। এর মধ্যে মোটর পাওয়া গেলে সেদিন সেটি নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর বেশি কিছু বলা হয়নি।

শওকত আলী বলেন, ‘হাসিম কেমন মানুষ এলাকার সবাই জানে। এমন কোনো অপকর্ম নাই সে করে না। এখন কী কারণে ছেলে মরছে, আর নানা কথা বলতে শুরু করেছে।’

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর