স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অত্যন্ত অবহেলা করেছে। কোনো কাজ করেনি।
শনিবার দুপুর ১টায় কোনো পূর্ব ঘোষণা হবিগঞ্জে সদর হাসপাতালে ঝটিকা সফর করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে সরাসরি খোঁজখবর নেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জাভেদ জিল্লুল বারী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হকসহ কর্মকর্তারা।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালে ৫ বছর আগের একটি জেনারেটর ফেলে রেখেছে। কোনো কার্যক্রম করেনি। আজ আমি নির্দেশনা দিয়েছি এটি খুলে দেখার জন্য। যেনো কাজে লাগানো যায়। ডাক্তার নিয়োগ করেনি। টাকা পয়সা লুট করেছে। প্রতিটি কাজে অবহেলা করেছে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেনি। নতুন ভবন করেনি। বিভিন্ন খাত থেকে প্রচুর লুটপাট করেছে।
তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় হাসপাতালগুলোতেই রোগী অত্যধিক হওয়ায় বেডের বাইরেও রোগী থাকতে হয়। সব রোগীকে খাবার দেওয়া যায় না। কোড নম্বর দিতে হয় ১শ’ এর জন্য, কিন্তু রোগী হয় আড়ইশ’। বেড, খাবার আমরা বৃদ্ধি করছি। আমি অন্য জায়গায় যা দেখেছি তার থেকে এখানে অনেক খারাপ অবস্থা। এখানে ডাক্তার অপ্রতুল। এত রোগীর তুলনায় ডাক্তারের সংখ্যা অনেক কম। আমরা ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি করবো। ইতোমধ্যে ৫ জন ডাক্তার এখানে পদায়ন করেছি। তারা যোগদানের পর আরও ডাক্তার আমরা এখানে দেবো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজে ৫০টি এবং সদর হাসপাতালের জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায়ই এভাবে দেওয়া হবে। তাহলে ঢাকা বা অন্য কোনো বড় শহরের উপরে রোগীর চাপ অনেক কমে যাবে। ইউনিয়ন হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স থাকবে। তারা ঘরে ঘরে দিয়ে মায়েদের দেখবে। বিভিন্ন পরীক্ষা করবে। আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীরা যাতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সংবাদদাতা 








