বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার এক গোপন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ফিফার টুর্নামেন্টগুলো বয়কট করার হুমকি থেকে সরে এলেও, এবার সরাসরি ফৌজদারি মামলার দিকে এগোচ্ছে উয়েফা। ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি হাতে পেতে ইতিমধ্যেই আবেদন করেছে তারা।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছিল। তাই সুইজারল্যান্ডে হতে যাওয়া ফৌজদারি মামলায় ব্যবহারের জন্য ফ্লোরিডার একটি আদালতের কাছেই প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থা।
উয়েফার অভিযোগ, ইনফান্তিনো নিজের এবং কিছু বেসরকারি বিনিয়োগকারীর পকেট ভারী করতেই এই পরিকল্পনা করেছিলেন। উয়েফার আবেদনে বলা হয়েছে, 'এটি মূলত ইনফান্তিনো এবং তার ছোট একটি চক্রের জন্য ফিফার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর স্থায়ী শেয়ার দখল করে লাভবান হওয়ার একটি হাতিয়ার ছিল। এর ফলে ফিফা, এর সদস্য দেশ এবং পুরো ফুটবল পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।'
আবেদনে আরও বলা হয়, ইনফান্তিনো অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে তড়িঘড়ি ডাকা এক বৈঠকে এই পরিকল্পনার অনুমোদন করিয়ে নেন। ফিফার শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের অনেক কর্মকর্তা এই সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। এমন একটি নজিরবিহীন মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সই করার জন্য তাদের মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল।
উয়েফার দাবি, কোনো ধরনের স্বাধীন যাচাই-বাছাই ছাড়াই পানির দরে ফিফার শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছিল। ইনফান্তিনোর শর্ত অনুযায়ী, মাত্র ৪.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা ফিফার বাণিজ্যিক শাখার স্থায়ী অংশীদার হয়ে যেতেন। ফলে ফিফার মোট বাজারমূল্য দাঁড়াত মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও অবাস্তব। এর জন্য কোনো উন্মুক্ত নিলাম ডাকা হয়নি বা কোনো স্বাধীন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে এর মূল্যও নির্ধারণ করা হয়নি। উয়েফা মনে করে, এই চুক্তির ফলে তাদের অধীনে থাকা ৫৫টি সদস্য দেশ আর্থিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতো।
উয়েফার মতে, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই ছক কষা হলেও ফুটবলের মূল স্টেকহোল্ডারদের একেবারে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। গত ২৮ জুলাই, ২০২৬-এ ফিফা কাউন্সিল, উয়েফা বা ২১১টি সদস্য দেশের কাউকেই না জানিয়ে ইনফান্তিনো প্রকাশ্যে এক নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ঘোষণা দেন, নারী ও পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামের নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
উয়েফার দাবি, ওই দিনের ঘোষণার মধ্য দিয়েই মূলত ইনফান্তিনো ও তার সহযোগীদের এক বছরের বেশি সময় ধরে গোপনে তৈরি করা নীল নকশাটি প্রকাশ্যে আসে।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








