সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ওয়েজখালী এলাকায় ঈদের দিনে মসজিদ থেকে ফেরার পথে আলোচিত ওয়ারিস হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে ৭ বছর এবং ৫ জনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, পৌর শহরের ওয়েজ খালি এলাকার মৃত গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া। ৭ বছরের সশ্রমদন্ড প্রাপ্তরা হলেন এলাকার রমিজ আলী, নুরুল মিয়া,খুরশেদ আলম, নুরুজ্জামান। এছাড়াও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন,ওই এলাকার রাজা মিয়া, জগলু মিয়া,নুর উদ্দিন,সহিনুর ও তাহের মিয়া।
দণ্ডাদেশের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উক্ত আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী দণ্ডাদেশের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী ও প্রাক্তণ কাউন্সিলার খুরশেদ আলমের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনি দ্বন্দ্ব নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিষয়কে কেন্দ্র। করে ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই হায়দার আলী ও খুরশেদ আলমের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে পরদিন ২৯ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজের পর স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মসজিদে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চাইলে খুরশেদের লোকজন সালিশ না মেনে মসজিদ থেকে চলে আসে। পরে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হায়দার আলী ছোটোভাই ওয়ারিস আলীর উপর হামলা করে খুরশরদের লোকজন। এই সময় উভয় পক্ষের মধ্য সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ওয়ারিস আলী গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সে বছরের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত ওয়ারিসের বড় ভাই হায়দার আলী।
দীর্ঘদিন মামলা শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
রায় ঘোষণার সময় খুরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান পলাতক ছিলেন। এ মামলার ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সংবাদদাতা 








