রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: পুলিশের দাবির বিপরীতে পরিবারের নানা প্রশ্ন
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০২ PM

রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: পুলিশের দাবির বিপরীতে পরিবারের নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬/০৮/২০২৬ ০২:৫৩:০১ PM

রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: পুলিশের দাবির বিপরীতে পরিবারের নানা প্রশ্ন


রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরী।

তিনি জানান, রোববার বাবুল মিয়াকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন। ঘটনার পর বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেছে পরিবার।

মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা বলেন, একজনের পক্ষে একই সময়ে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই ধরনের দাবি করেছেন গৃহকর্মী তাহমিনার পিতাও। স্থানীয় বাসিন্দারাও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার গভীরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে ১৩ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেন। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর বাসার বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাসার বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তের চিহ্নও পাওয়া যায়। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।


জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার ‘খারাপ আচরণে’ ক্ষুব্ধ হয়ে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে তাহমিনাকে হামলা করে হত্যা করা হয়। পরে বাধা দিতে এলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং সবশেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে বাবুল।


পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ওই বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান সামগ্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর সিলেট নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর