আদিবাসীরা নাগরিক হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার; ভিসি মোহাম্মদ জহিরুল হক
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ PM

আদিবাসীরা নাগরিক হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার; ভিসি মোহাম্মদ জহিরুল হক

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৮/২০২৬ ০৮:৩৬:২৭ PM

আদিবাসীরা নাগরিক হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার; ভিসি মোহাম্মদ জহিরুল হক


সিলেটের মেট্রোপলিট্রন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, বর্তমানে আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, আবহাওয়া ও ঋতুর তারতম্য প্রভৃতি সংকট মোকাবেলা করছি। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক বৈষম্য। আর এর সবগুলোর নির্মম শিকার হচ্ছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তাঁরা আমাদের দেশের নাগরিক হলেও রাষ্ট্রীয় অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার।

রবিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন উপলক্ষে কুলাউড়ায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা কমিটি, কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) যৌথভাবে কুলাউড়াস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রা এবং পরিচালনা করেন  হীরামন হেলেনা তালাং ও মনিকা খংলা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মৌলভীবাজার জেলা আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ফ্লোরা বাবলী তালাং। স্বাগত বক্তব্য দেন সিঙ্গুর পুঞ্জির ববিতা ডিও।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক আরও বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও সনদে আদিবাদেরকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশে তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আজও মিলেনি। সমাজে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে তাদেরকে অভিহিত করে প্রান্তিক থেকে প্রান্তিক অবস্থানে তাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান, প্রকৃতিনির্ভর জীবনদর্শন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে আমরা বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করতে পারতাম। পার্বত্য জেলাসহ দেশের সমতলে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, কৃষি, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের জীবনযাত্রা বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদিবাসীরা কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল। সম্মানীত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, কুলাউড়া উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টু, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির আহবায়ক এডভোকেট ডেরিক প্রেন্টিস ডাডলি, কুলাউড়া উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, ভয়েস অব রিভার মনু'র প্রধান নির্বাহী আসম ছালেহ সোহেল, কারিতাস সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক বনিফাস খংলা, বাংলাদেশ অবলেটস জাস্টিস এন্ড পিস এর সমন্বয়কারী ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল, আদিবাসী নেতা দোলন কুর্মি, প্রমুখ।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল বলেন, কোন জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে এই দেশ এগিয়ে যেতে পারেনা। সকল জাতিগোষ্ঠীর লোকদের নিয়েই আমাদের দেশ। দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন বর্তমানে সুরক্ষিত আছে। সুরক্ষিত আছে বলেই তারা এখনো ঠিকে আছে। ইতিমধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম মহোদয় বিভিন্ন পুঞ্জি পরিদর্শন করে তাদের পুঞ্জির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প দিচ্ছেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের সরকারের সময়কালে কোন পুঞ্জিতে অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানি বা জবরদখল করতে পারবেনা। আমরা আদিবাসীদের পাশে অতীতেও ছিলাম বর্তমানেও আছি। অনুষ্ঠান শেষে আদিবাসী শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

এর আগে সকাল ১১টায় দিবসটি পালন উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে। কুলাউড়া মডেল থানার সম্মুখে র‍্যালীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল। এতে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যগত পোষাক পরিধান করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, এবারের আদিবাসী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান জানানো: জীবন ও সুস্থতা রক্ষা করা।’ অনুষ্ঠানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন ধাত্রীও উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর