সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে ওসমানীনগর থানায় মামলাটি করা হয়।
রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সাদমান জাহাঙ্গীর সৌরভের বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের চালক এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের চালককে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করে। একই সঙ্গে বাস দুটির মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শনিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীনদের সঙ্গে দেখা করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ জনের মৃত্যু হলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে।
নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
ওসমানীনগর প্রতিনিধি 








