শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সৈয়দ মুজতবা আলী হলের টিভি রুমে তিন মাস ধরে রাত কাটানো পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নিশান হোসাইনের আবাসন সংকট এবার নজরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তার পাশে দাঁড়িয়েছে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিশানের জন্য হলে একটি সিটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের টিভি রুমে গিয়ে নিশানের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তার কাছ থেকে আবাসন সংকটের বিষয়টি শোনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন তারা।
ফোনে নিশানের বর্তমান পরিস্থিতি উপাচার্যকে জানানো হলে তাকে হলে একটি সিট দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিশান শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস ভাড়া করে থাকার সামর্থ্য নেই তার। তার বাবা রিকশাচালক। অন্যদিকে তার মা দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হলের একটি সিটের জন্য চেষ্টা করছেন নিশান। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার আবাসনের ব্যবস্থা হয়নি।
ফলে কখনো হলের মসজিদের মেঝেতে, আবার কখনো টিভি রুমের কয়েকটি বেঞ্চ জোড়া দিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের টিভি রুমের একটি বেঞ্চই তার অস্থায়ী আশ্রয়।
সেখানেই গামছা মাথার নিচে দিয়ে কোনো বালিশ বা কাঁথা ছাড়াই রাত কাটাচ্ছেন এই শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার রাতে নিশানের সঙ্গে দেখা করে তার পরিস্থিতি জানতে পারেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তার আবাসন সংকটের বিষয়টি জানার পর তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ফোনে নিশানের পারিবারিক অবস্থা ও দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকার জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে উপাচার্য তাকে হলে একটি সিট দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
এখন প্রশাসনের দেওয়া সেই আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হয়ে নিশানের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের অবসান হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শাবি প্রতিনিধি 








