হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার শাহজিবাজার গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল। টারবাইনের ব্লেডে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিয়মিত উৎপাদনে যেতে পারেনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) মালিকানাধীন এই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে না কেন্দ্রটির ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। চায়না কেবল করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পটির কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তখনই টারবাইনের একটি ব্লেড ভেঙে যায়। এর পর থেকে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম।
তবে এটি কেন্দ্রটির প্রথম সমস্যা নয়। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতেও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। কিন্তু টারবাইনের ব্লেড বারবার ভেঙে যাওয়ায় সেটি নিয়মিত উৎপাদনে যেতে পারেনি। কয়েক দফা মেরামতের পরও ত্রুটি পুরোপুরি দূর না হওয়ায় সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে চার বছরে কেন্দ্রটি সব মিলিয়ে মাত্র ৬৭ দিন বা ১ হাজার ৬১০ ঘণ্টা সচল ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় ধরেই কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।
এখন কেন্দ্রটি আবার চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন টারবাইন ব্লেড আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ কে এম মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্লেডটি আমেরিকা থেকে আনা হবে। তাঁর ধারণা, ২০২৭ সালের জুনে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে।
এদিকে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কেবল করপোরেশন লিমিটেডকে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাকি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার কারণ কী এবং পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সময় ব্লেড ভেঙে যাওয়ার পর নতুন ব্লেড আনতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগছে এসব বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় উৎপাদনের বাইরে থাকায় একদিকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না সম্ভাব্য ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয় ও কাঙ্ক্ষিত সুফল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এখন নতুন ব্লেড আসার পর কেন্দ্রটি আদৌ নির্ধারিত সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। ২০২৭ সালের জুনে উৎপাদনে যাওয়ার যে সম্ভাবনার কথা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নেয় কি না সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








