শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিলেটজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বুধবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটি, আনসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। এমন কোনো আতশবাজি বা কার্যক্রম করা যাবে না, যাতে দর্শনার্থী কিংবা স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ তৈরি হয়। পাশাপাশি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে।
পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশের আগে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজবের ঘটনায় কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি স্থাপনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ডিউটি রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেন তিনি।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি সমন্বয়ে প্রতিটি উপজেলায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালুর নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। প্রয়োজনে বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
পূজা উদযাপন কমিটি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সার্বিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
বিসর্জনের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট মহানগর এলাকায় রাত ৯টার মধ্যে এবং জেলার অন্যান্য এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ হেলাল, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জনি কান্ত দেব উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিজিবি, এসআরবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলার আহ্বায়ক খোকন রঞ্জন দে, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র ধর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট মহানগর এর আহ্বায়ক অর্জুন ঘোষ, সদস্য সচিব উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









