জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আট আমল
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ AM

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আট আমল

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/১০/২০২৬ ১০:০২:১৬ AM

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আট আমল


ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে এ দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিনে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে পারেন।

কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাও রয়েছে। জুমার দিনের মর্যাদা ও আমল সম্পর্কে একাধিক হাদিসে বিস্তারিত নির্দেশনা এসেছে।

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন-যদি সে হারাম কিছু প্রার্থনা না করে। আর এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায়
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এ দিনের জন্য গোসল করে, পরিচ্ছন্ন হয়ে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, ভালোভাবে পবিত্র হয়, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, দুজন মুসল্লির মাঝখানে গিয়ে তাদের আলাদা না করে, নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমাম খুতবা শুরু করলে নীরব থাকে-তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা
জুমার দিন গোসল করা এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। আউস ইবনে আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, দ্রুত মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে-তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব রয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

৪. আগে আগে মসজিদে যাওয়া
জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি ফজিলতের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; এরপর যে যায়, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল; এরপর যে যায়, সে যেন একটি ছাগল কোরবানি করল। এরপর যারা আসে, তাদের জন্যও পর্যায়ক্রমে সওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা খুতবা শুনতে উপস্থিত হন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। হাদিসে এ সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

তাই জুমার দিনে বিশেষ করে আসরের পর বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

৬. সুরা কাহাফ পাঠ
জুমার দিনের অন্যতম আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোয় আলোকিত থাকবে। (আল-মুস্তাদরাক: ২/৩৯৯)

৭. বেশি বেশি দরুদ পড়া
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

আউস ইবনে আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ... অতএব, তোমরা এ দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৮. গুনাহ থেকে বিরত থাকা
জুমার দিনের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি। হাদিসে জুমার নামাজ ও অন্যান্য আমলের মাধ্যমে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা এসেছে-তবে কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই জুমার দিনকে শুধু নামাজের দিন হিসেবে নয়, বরং তওবা, ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর