সতের শ গাছের মধ্যে সড়কের পাশে মিলল দেড় শতাধিক
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ AM

সতের শ গাছের মধ্যে সড়কের পাশে মিলল দেড় শতাধিক

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/১০/২০২৬ ১০:১৯:২৯ AM

সতের শ গাছের মধ্যে সড়কের পাশে মিলল দেড় শতাধিক


সড়কের দুই পাশে সবুজের সারি গড়ে তোলার কথা ছিল। প্রকল্পের নথিতে আছে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর হিসাব, সেই হিসাবে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। কিন্তু কয়েক বছর পর মাধবপুর পৌরসভার গুদামপাড়া মসজিদ থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পাশে সরেজমিনে দেখা গেল আনুমানিক দেড় শতাধিক গাছ। ফলে নথির হিসাব আর বাস্তবের দৃশ্যপটের মধ্যে এত বড় ব্যবধান কীভাবে তৈরি হলো এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় ২০২১ সালে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের পরিবেশগত কার্যক্রমের হিসাব ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ওই সড়কের পরিবেশগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানো হয়েছিল। এ জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ডাস্ট সাপ্লাই, এয়ার কোয়ালিটি, নয়েজ লেভেল ও ওয়াটার কোয়ালিটি মেজারমেন্ট, ক্যাম্পসাইট ওয়েস্ট ডিসপোজাল, ওয়াটার সাপ্লাই, স্টেশন ফ্যাসিলিটি ও সেফটি মেটেরিয়ালসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কার্যক্রমে আরও ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিবেশগত অংশে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, অর্জুন, আকাশমণি ও কৃষ্ণচূড়াসহ আনুমানিক দেড় শতাধিক গাছ দেখা যায়। তবে বর্তমানে দৃশ্যমান এসব গাছের কতটি ২০২১ সালের প্রকল্পের আওতায় লাগানো হয়েছিল, তা সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর হিসাব থাকলেও বর্তমানে সড়কের পাশে তুলনামূলক কমসংখ্যক গাছ দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের আওতায় লাগানো গাছের কতটি জীবিত রয়েছে, কতটি নষ্ট হয়েছে এবং কতটি বর্তমানে নেই তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক, প্রকল্প পরিচালক, এমডিএসপি দপ্তর ও মাধবপুর পৌরসভার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিলু এন্টারপ্রাইজ। মাধবপুর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ ও বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্ট টিমের প্রকৌশলীরা প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করেন।

অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক দপ্তর সরাসরি ঠিকাদারের অনুকূলে ছাড় করে। বাকি ১০ শতাংশ অর্থ সরকারের (জিওবি) অংশ হিসেবে ভ্যাট কর্তনের জন্য মাধবপুর পৌরসভার অনুকূলে দেওয়া হয়।

প্রকল্পের গাছ লাগানোর হিসাব ও বর্তমান বাস্তবতার এই পার্থক্য নিয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি তেমন ভালো করে জানি না। উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।”

পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, “নিলু এন্টারপ্রাইজ গাছ লাগানোসহ পুরো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছে। আমরা শুধু মনিটরিং করেছি। আকাশমণিসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ লাগানো হয়েছিল, কোনো ফলের গাছ লাগানো হয়নি। তবে বর্তমানে অল্প কিছু গাছ আছে। গাছের দাম বিশ্বব্যাংকের লোকজন নির্ধারণ করেছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।”

মাধবপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “গাছ লাগানোর বিষয়টি অনেক আগের। আমি বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয়দের বক্তব্য, নথিতে উল্লেখ থাকা ১ হাজার ৭০০টি গাছের হিসাব এবং বর্তমানে সড়কের পাশে দৃশ্যমান গাছের সংখ্যার মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, গাছের ক্রয়মূল্য, রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্পের সার্বিক ব্যয়ের তথ্যও যাচাই করা হোক।

তাদের মতে, গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে গাছ নষ্ট হওয়া, মারা যাওয়া বা অন্য কোনো কারণ থাকলে তারও সুনির্দিষ্ট হিসাব থাকা দরকার। আর যদি প্রকল্পের নথিতে থাকা হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সবুজের জন্য বরাদ্দ অর্থে সত্যিই কতটা সবুজ তৈরি হয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন স্থানীয়রা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর