মৌলভীবাজারে ১২-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ PM

মৌলভীবাজারে ১২-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০২৬ ০৬:১৮:০৮ PM

মৌলভীবাজারে ১২-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত


তীব্র গরমের মধ্যে মৌলভীবাজারে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সকাল থেকে রাত দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের তীব্র গরমের মধ্যেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সমানতালে লোডশেডিং চলছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭১ মেগাওয়াট।

শহীদনগর বাজারের একটি কারখানার মালিক হেলাল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় মেশিনারিজের ক্ষতি হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ফয়ছল আহমেদ বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। ঘনঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখা করতে পারছি না।

বিদ্যুতের পাশাপাশি গরমের তীব্রতাও মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, গরমের দাপট কমতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা কমে আসবে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে তাপমাত্রা নেমে এলে শীত মৌসুমের আগমন মনে করা হয়। এখন আরও কিছুদিন তাপমাত্রা বেশি থাকবে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আগে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল, এখন আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। আজ আমাদের প্রয়োজন ৯৫ মেগাওয়াট, অথচ আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি ৭১ মেগাওয়াট। এটি বিকেল ৩টার হিসাব।

ঘনঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে তীব্র গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি উৎপাদন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর