মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক নারীকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত ও নগ্ন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন ৩৭ বছর বয়সী ওই নারী। মামলার পর সেলিম উদ্দিন (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন তিনি।
গ্রেপ্তার সেলিম উদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন তাজপুর গ্রামের আঙ্গুর বেগম (৪২) ও লিজা বেগম (২২)। পরে সেলিম উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দুবাই প্রবাসী। আসামিদের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আঙ্গুর বেগম তার ফুফাতো বোন এবং লিজা বেগম ভাতিজি। সেই সম্পর্কের সূত্রে ওই নারী আঙ্গুর বেগমের মোবাইলে কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়েছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৩ মার্চ রাত ১০টার দিকে সেলিম উদ্দিন একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই নারীকে ফোন করেন। নিজেকে মৌলভীবাজার পুলিশের একজন ‘বড় কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি শাহবাজপুর তদন্তকেন্দ্রের একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ছবি পাঠান তিনি। ওই পুলিশ সদস্যরা তার অধীনে কাজ করেন বলেও দাবি করেন সেলিম।
এরপর সেলিম ওই নারীকে জানান, আঙ্গুর বেগম ও লিজা বেগমের কাছে তার কিছু অশ্লীল ও নগ্ন ছবি রয়েছে। টাকা না দিলে সেগুলো তার স্বামীর কাছে পাঠানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করে ওই নারী সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে কয়েক দফায় টাকা পাঠান। ৩০ হাজার, ৫ হাজার, ৫ হাজার ও ৭ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৪৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তার স্বামী জানতে পারেন। এরপর ওই নারী আঙ্গুর বেগমের কাছে টাকা ফেরত চান।
এজাহারে বলা হয়েছে, পরে সেলিমের বিকাশ নম্বর থেকে ওই নারীর মায়ের বিকাশ নম্বরে দুই দফায় ১০ ও ২০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে সেলিম ওই নারীর স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। তার কাছে ওই নারীর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি রয়েছে জানিয়ে টাকা না দিলে সেগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
স্ত্রীর সম্মানের কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগীর স্বামী গত ১৩ মার্চ সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এরপরও সেলিম টাকা দাবি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। একপর্যায়ে তিনি আর টাকা দিতে রাজি না হলে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে তার ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও নগ্ন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ৯ জুলাই তৃতীয় আসামি লিজা বেগমের ‘কষ্টের ভরা জীবন আমার’ নামের ইমো আইডি থেকে ওই নারীর স্বামীর ইমো আইডিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিকৃত ছবিগুলো পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, নিজের পরিচয় গোপন করে পুলিশ কর্মকর্তা সেজে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন সেলিম। পরে অপর দুই আসামির সহযোগিতায় তার ব্যক্তিগত ছবি এআই প্রযুক্তিতে বিকৃত ও নগ্ন করে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন এবং মামলার সঙ্গে বিভিন্ন প্রমাণও দিয়েছেন। মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








