ওসমানীনগরে আধিপত্য বিস্তারে বলি মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ AM

বিনষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ

ওসমানীনগরে আধিপত্য বিস্তারে বলি মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়

সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১/০৯/২০২৬ ১০:২৯:০৮ PM

ওসমানীনগরে আধিপত্য বিস্তারে বলি মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়


ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২০ সালে মোবারকপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় নামে স্থাপন করা বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে। মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও সুশৃঙ্খল উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে। তবে বর্তমানে বিদ্যালয় উন্নয়নে একাধিক কমিটি গঠনে সৃষ্টি হয়েছে প্রকাশ্যে বিরোধ। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি না করে বিদ্যালয়কে অভ্যন্তরীণ আধিপত্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হচ্ছে। যার ফলে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। 

বিদ্যালয়টি স্থাপনে এলাকার অনেকেই ভূমি দান ও অর্থ সহযোগিতার পাশাপাশি প্রবাস থেকে বিদ্যালয় বাস্তবানে এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরাও। যার ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই যুক্তরাজ্যে গঠন করা হয় মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইউকে বাস্তবায়ন ও পরিচালনা কমিটি। বর্তমানে মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি নামে আরো একটি কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছে। অ্যাডহক কমিটি গঠনের পূর্বে মঙ্গলবার দুপরে মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি নামে আরো একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়য়ের ক্লাস বন্ধ রেখে বিদ্যালয়য়ের কক্ষে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি প্রকাশ করেন উপস্থিত একাংশ। কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে। একজন প্রধান শিক্ষক এভাবে কোন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে স্থানীয়দের অবজ্ঞার মাধ্যমে কমিটি গঠনের ফলে কমিটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিরোধ। বিদ্যালয়ের হলরুমে কমিটির তালিকা প্রকাশ পেলে স্থানীয়দের অবজ্ঞার করার অভিযোগে প্রায় ৩০/৪০ জন অভিভাবক, ভূমিদাতা, দাতা সদস্যসহ স্থানীয়রা এই কমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

তাই অ্যাডহক কমিটি ব্যাতিত বিদ্যালয়ের নামে সকল কমিটি বাতিল ও শিক্ষার সুষ্ট পরিবেশ সুনিশ্চিতে মঙ্গলবার বিকালে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসি। 

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির তালিকা সংম্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। অ্যাডহক কমিটি প্রকাশের আগেই বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি নামে আরো একটি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে আধিপত্ব স্থাপনে একের পর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কমিটির পদ-পদবি ও কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরো দৃশ্যমান হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেও টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবকরা এসব বিষয়ে না জড়াতে তাদের সন্তানদেরও বিদ্যালয়ে দিচ্ছেন না। এতে করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমার পাশাপাশি বিনষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশও।

বিদ্যালয়ের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তাহমিমাও জানেন না এসব কমিটির বিষয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তাহমিমা বলেন, নতুন কমিটি গঠন বা এই বিষয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অবগত করেননি। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জটিলতা সৃষ্টি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ^াস প্রদান করেন তিনি। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর মন্ডল বলেন, বিদেশ থেকে টাকা আসার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের না জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি এমপিও ভূক্ত কমিটি না, তাই জনাইনি। কমিটি নিয়ে স্থানীয় বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনাস্থা থাকবেই।

লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সরকারি মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর