মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ PM

মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৫:০৭:১০ PM

মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক


সিলেট সদর উপজেলার পীরেরবাজার এলাকার ‘জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার’ মুহতামিম ফয়জুল হককে দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। ওই মাদ্রাসার আরও অনেক শিশু একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। এমনকি কিছু শিশুর শরীরেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ফয়জুল হক আদালতে বলাৎকারের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার পর মাদ্রাসাটি তালাবদ্ধ করে শিক্ষকরা চলে গেছেন। সেখানে আরও কোনো শিক্ষক এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পীরেরবাজার এলাকায় মাদ্রাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর দেখা পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা জানান, কয়েক দিন আগে মাদ্রাসার আট বছরের এক শিশুর স্তন থেকে পুঁজ বের হচ্ছিল। তখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ডেকে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান, স্তনে জোরে কামড় দেওয়ার কারণে এমন হয়েছে।

ওই অভিভাবক বলেন, পরে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর ছেলে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। বিষয়টি জানাতে না চাওয়ায় তাঁকে মারধরও করা হয়। একপর্যায়ে মারধর সহ্য করতে না পেরে শিশুটি মাদ্রাসায় তার ওপর নির্যাতনের কথা জানায়।

এরপর কয়েকজন অভিভাবক একসঙ্গে মাদ্রাসায় গেলে অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের নির্যাতনের কথা জানায় বলে দাবি করেন ওই শিশুর বাবা। তাঁর ভাষ্য, শিশুরা জানিয়েছে, ‘প্রতিরাতে ১/২ জন করে ছাত্রকে হুজুরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর খারাপ কাজ করা হয়’। এসব ঘটনা কাউকে না বলার জন্য শিশুদের হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও তিনি জানান।

পীরের বাজার এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, এর আগেও মাদ্রাসাটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে খারাপ কাজের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর ভাষ্য, এলাকাবাসী আর এই মাদ্রাসা চালাতে দিতে চান না।

এর আগে দুই শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাটির মুহতামিম ফয়জুল হককে আটক করে শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি বলাৎকার করেছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক আদালতে বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। মাদ্রাসাটির অন্য কোনো শিক্ষক এসব ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফয়জুল হকের বাড়ি জৈন্তাপুরে।

গ্রেপ্তারের পর শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ জানিয়েছিলেন, ৮ থেকে ১০ বছরের দুটি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

ওসি শিশু দুটির পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, তারা সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে এবং আর সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিভাবকেরা মারধর করেও তাদের মাদ্রাসায় পাঠাতে পারেননি। পরে শিশু দুটি জানায়, প্রতি রাতে তাদের হুজুরের ঘরে যেতে হতো। যেতে না চাইলে মারধর করা হতো এবং ঘরে গেলে ‘খারাপ কাজ’ করা হতো।

ফয়জুল হককে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন না কেন। জবাবে ফয়জুল হক বলেছেন, ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর