ছবি : মো. সোহেল মিয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে এমন একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচার, স্বৈরাচারী শক্তি, ফ্যাসিবাদী বা মাফিয়া শক্তির উত্থান ঘটতে না পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এমন একটি সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চাই, যার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচারের উৎপত্তি হবে না। কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উৎপত্তি হবে না। কোনো ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়া শক্তির উৎপত্তি হবে না।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। বিএনপির ইতিহাসও আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯ দফা ছিল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কর্মসূচি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করাই ছিল এর লক্ষ্য। বিএনপি সেই কর্মসূচির ভিত্তিতেই রাজনীতি করে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাস।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠা ও প্রবর্তন করেন। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।’ নারী শিক্ষা ও নারীর অগ্রগতিতেও বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, একসময় ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। এরপর দেশে নতুন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। এসব থেকে দেশকে মুক্ত করতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রব্যবস্থার বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা দেখেছেন।’
তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমরা বলি, উই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ জনগণের কল্যাণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও ভাতা দেওয়ার কর্মসূচিও অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি জনগণভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক। সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজকের সিলেট/এপি









