কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্মান্তরের চাপ, শাওনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৩ PM

কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্মান্তরের চাপ, শাওনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০২৬ ০২:৪৩:৪০ PM

কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্মান্তরের চাপ, শাওনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চার দিন আটকে রেখে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কথিত কিশোর গ্যাং লিডারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা।

মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের জহুর ইসলামের ছেলে শাওন ইসলামের নাম রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে শাওন ‘টিকটকার শাওন’ নামে পরিচিত। মামলায় শাওনের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদাঘাট এলাকার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কলেজে যাতায়াতের পথে কয়েক মাস ধরে শাওন ও তার সহযোগীরা উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি ছাত্রীটি তার বাবা-মা ও স্বজনদের জানালে শাওন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার ভোররাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তার বাবা শাওনের বাবা জহুর ইসলাম ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে গেলেও সেখানে বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। বরং শাওন ওই ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, শাওনের বিরুদ্ধে এর আগেও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও প্রভাবশালী স্বজনদের কারণে সেসব ঘটনা মীমাংসা বা ধামাচাপা পড়ে যায় বলে তারা অভিযোগ করেন।

মামলা দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে মূল ঘটনা আড়াল করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগীর বাবা-মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মেয়ের সম্ভ্রমহানি হওয়ার আগেই তাকে নিরাপদে ফিরে পেতে এবং অপহরণে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।”

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধার এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও কাজ করছেন।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর