রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা শুনে আমিও কেঁদেছি: হেলাল চৌধুরী
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ PM

রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা শুনে আমিও কেঁদেছি: হেলাল চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪/০৮/২০২৬ ০৩:৩৩:১০ PM

রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা শুনে আমিও কেঁদেছি: হেলাল চৌধুরী


সিলেট নগরীর রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী হেলাল চৌধুরী। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় যুক্তরাজ্য থেকে জন্মভূমি সিলেটে ফেরেন হেলাল চৌধুরী। এ সময় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হেলাল চৌধুরী বলেন, “সিলেটের রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা শুনে আমি নিজেও কেঁদেছি। লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরাও এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ও হতাশ। সবাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ ঘটনার একটি সুরাহা চান।”

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে। আদালতে বাবুল নামের ওই ব্যক্তি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এরপরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা, হতাশা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হেলাল চৌধুরী আরও বলেন, “সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন দেশ ও প্রবাসীদের গণদাবি। মানুষের আতঙ্ক দূর করে শান্তির শহর সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রশাসন যদি ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রয়োজনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ করে কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেবে।”

হেলাল চৌধুরী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটের প্রবাসীরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় তারা গভীরভাবে হতাশ। তাই এ ঘটনার দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

নিজের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মেহনতি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমার জীবন। এতে রয়েছে তৃপ্তি ও আনন্দ। রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে আমৃত্যু মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।” এ সময় তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও জোর দাবি জানান সরকারের প্রতি।

হেলাল চৌধুরীর সংবর্ধনাকে ঘিরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমর্থকগোষ্ঠী, পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শত শত নেতাকর্মী ফুলের তোড়া ও গলার মালা নিয়ে উপস্থিত হন। তাকে আন্তরিকভাবে সম্মাননা জানাতে গিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের আয়োজনটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রূপ নেয়।

সংবর্ধনায় বক্তারা বলেন, হেলাল চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ নন, তিনি বৃহত্তর সিলেটের একজন কৃতী সন্তান। যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও দেশের মানুষের প্রতি তার রয়েছে গভীর টান। শিক্ষা, সমাজসেবা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান রয়েছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, বিমানবন্দর থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুল আলম মুফিক, সিলেট মহানগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামী নেতা মামুন আহমদ ও ফেরদৌস আহমদ, বিশিষ্ট মুরুব্বি রুবেল আহমদ ও আব্দুল আহাদ, গণমাধ্যম, পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নকর্মী হাবিব সরোয়ার আজাদ, যুব সংগঠক ঈশা তালুকদার, বিমানবন্দর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি লুৎফুর রহমান ও সেক্রেটারি সুফিয়ান আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি কাজী কাওছার আহমদ রুহান, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আইয়ুব মোহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ নাঈম, যুবনেতা তামিম আহমদ, নাবিল, আলিফ, আতিক, মাহাদ, আব্দুল গফ্ফার, সৌমিক, ইকরাম, নাবিল আহমদ, আবদুল্লাহ অনিক, জামিল মজুমদারসহ ৫ নম্বর ওয়ার্ড ঐক্যফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর