শহর বিস্তৃত, পৌরসভা স্থবির; শ্রীমঙ্গলে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৬০ হাজার
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪০ PM

শহর বিস্তৃত, পৌরসভা স্থবির; শ্রীমঙ্গলে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৬০ হাজার

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০২৬ ১০:১০:৩৫ AM

শহর বিস্তৃত, পৌরসভা স্থবির; শ্রীমঙ্গলে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ৬০ হাজার


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর চা-বাগান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। বাড়ছে জনবসতিও। কিন্তু শহরের পরিধি বাড়লেও ৯০ বছরের বেশি সময় ধরে একই রয়েছে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সীমানা। ফলে শহরের সঙ্গে মিশে যাওয়া আশপাশের এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এখনো পৌরসভার নাগরিক সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন ছিল ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার। তখন এখানে বাস করতেন আনুমানিক ২ হাজার মানুষ। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। পৌর এলাকার সীমানা সম্প্রসারণে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে শহরের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়া বেশ কিছু এলাকা এখনো ইউনিয়ন পরিষদের অধীনেই রয়েছে। এর কারণে এসব এলাকার বাসিন্দারা পৌরসভার পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।

বর্তমানে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হোল্ডিং রয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় বছরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পৌর এলাকার সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ কিলোমিটার। পাশাপাশি রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৬৭৫টি স্ট্রিট লাইট এবং প্রায় ২ হাজার ৩০০টি পানির সংযোগ।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, সীমানা সম্প্রসারণের আগের প্রস্তাবে শ্রীমঙ্গল সদর, কালীঘাট ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের রূপসপুর, ভাড়াউড়া, সুইনগর, ফুলছড়া, ভুরভুরিয়া, রামনগর, উত্তরসুরসহ বিভিন্ন মৌজা ও গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। এ বিষয়ে ১৯৮১ সালে গেজেটও প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবারও সীমানা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে শ্রীমঙ্গল পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়টি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এবার নতুন করে পৌরসভার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জুলাই আগের প্রস্তাবে থাকা মৌজা ও গ্রামের সঙ্গে আরও কয়েকটি এলাকা যুক্ত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে পৌর এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখে পৌঁছাতে পারে। ওয়ার্ডের সংখ্যাও বর্তমান ৯টি থেকে বেড়ে ১২ থেকে ১৪টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপসপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির আহমেদ বলেন, আগে তাঁদের এলাকা শহরের বাইরে ছিল। এখন সেটি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলেও প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়নের অধীনেই রয়েছে। ফলে এলাকার মানুষ বিভিন্ন উন্নয়ন সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছেন। দ্রুত পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করা হলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াশ দাশ বলেন, সবুজবাগ বর্তমানে বাস্তবে শহরেরই একটি অংশ। কিন্তু ইউনিয়নের আওতায় থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়া যায় না। সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধায় ঘাটতি রয়েছে। পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে এলাকাটিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান জানান, পৌরসভা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই প্রস্তাবটি অনুমোদন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর