বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ: পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান, বাড়ছে উত্তেজনা
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ PM

বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ: পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান, বাড়ছে উত্তেজনা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৮/২০২৬ ০১:৫০:৫১ PM

বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ: পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান, বাড়ছে উত্তেজনা


সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লাউতা ও বাহাদুরপুর এলাকার যুব সমাজ এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ নামের একটি পক্ষ প্রতিযোগিতাটি বন্ধের দাবি জানানোয় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। প্রতিবছর প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এবার আয়োজন বন্ধের দাবি ওঠায় সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লাউতা ইউনিয়নের গাংপাড় এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বহু বছর ধরে স্থানীয় যুবকেরা সুনাই নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করে আসছেন। এবার কয়েকজন যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন। এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নৌকাবাইচ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের বিনোদনের একটি আয়োজন। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ নদীর পাড়ে এসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। এবার একটি পক্ষের বিরোধিতার কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা বেড়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে একটি সভা হয়। সভা থেকে আগামী ২৮ আগস্টের নৌকাবাইচ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। প্রতিবছর সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ হয়ে থাকলেও এবার একটি পক্ষ আয়োজন না করার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। এ কারণে এবার প্রতিযোগিতা না করার বিষয়ে স্থানীয় একটি মসজিদে আলোচনা হয়েছে।

তবে ইউএনও জানান, নৌকাবাইচ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। আয়োজকেরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে আয়োজন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও জানান, এবারের নৌকাবাইচের বিষয়ে আয়োজকেরা এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি এবং আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতিও নেননি।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন বলেন, বিষয়টি যাতে কোনোভাবেই সংঘাত বা উত্তেজনার দিকে না যায়, সে জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, নৌকাবাইচ আয়োজন বা এ নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর