বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পান রপ্তানিতে অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছে ‘কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব’।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই তারা সৌদি আরবে পান আমদানি করে আসছে। সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশি উন্নতমানের পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি’ নাম ব্যবহারকারী একটি চক্রের কারণে পান রপ্তানি খাত সংকটের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
প্রতি ঝুড়িতে ৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ
আমদানিকারকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র প্রতিটি পান আমদানির বাস্কেট বা ঝুড়ির বিপরীতে ৫০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা দাবি করছে। এই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সাধারণ পান রপ্তানিকারকদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে রপ্তানিকারকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাননি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমদানিকারকরা সতর্ক করে বলেছেন, চাঁদাবাজি ও রপ্তানিতে বাধা অব্যাহত থাকলে তারা বাংলাদেশ থেকে পান আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হারাবে। একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক পানচাষিরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ
সংগঠনটির দাবি, প্রতি চালানের পানের ‘বিল অব এক্সপোর্ট’ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সমিতির প্রশংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার শর্তের সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্রটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এমন শর্তের কারণে পান রপ্তানিতে সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পান রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৩২.৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরের অর্থবছর ২০২৪-২০২৫ সালে সেই আয় কমে দাঁড়ায় ২১.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পান রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ।
সংকটে রপ্তানিকারক ও কৃষক
আমদানিকারক সমিতির মতে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রথমত, বৈধ রপ্তানিকারকরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পান রপ্তানি কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, পানচাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তৃতীয়ত, পান রপ্তানি থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এনবিআরের শর্ত সংশোধনের দাবি
পান রপ্তানি খাতকে সচল রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘সমিতির সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা’ বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অসাধু চক্রের তৈরি করা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ‘কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব’।
আমদানিকারকদের পক্ষে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী। চিঠির অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলেও পাঠানো হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
অর্থনীতি ডেস্ক 








