হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরির অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করা হয়েছে।
গত বুধবার রাতে চুনারুঘাট থানায় মামলা দুটি করে বন বিভাগ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কেনাবেচার অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ চুরি ও বিক্রির অভিযোগে ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
অপরদিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটা ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদি হয়ে এ মামলাটি করেন।
মামলার আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন সাতছড়ি উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট পৌর এলাকার উত্তর আমকান্দি গ্রামের গাছ ব্যবসায়ী মুনায়েম, দেওরগাছ গ্রামের মান্নান মিয়ার ছেলে কালা মিয়া, পাইকপাড়া ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস, মাঝিশাইল গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে জসিম, গাজীপুর গ্রামের ওয়াছ উল্লাহর ছেলে তাহির মিয়া, বদরগাজী গ্রামের মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া, করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর তিন ছেলে রফিক মিয়া, হেলাল মিয়া ও মকবুল মিয়া এবং মাধবপুর উপজেলা ইটাখলা গ্রামের মৃত সানা উল্লাহ’র ছেলে মাসুম বিল্লাহ।
বনের চুরি করা গাছ ক্রয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খাঁন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া (৩১), মিরাশী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, গাছ ব্যবসায়ী বেলাল, বড়ব্দা গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে জমরুত, পাকুড়িয়া গ্রামের সোহেল।
সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বনে গাছ চুরির সঙ্গে বন কর্তৃপক্ষ জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং এসব গাছ চুরি করে কেনা-বেচা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে গোয়েন্দা সংস্থা গোপনীয় প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে গাছ কাটা, চুরি ও চুরি করা গাছ কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেয়ে জড়িতদের নাম উল্লেখ করা হয়।
বন বিভাগের তদন্তেও অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে বন বিভাগ উল্লিখিতদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে।
আজকের সিলেট/এপি









