নিরপরাধ কেউ হয়রানি নয়, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চান সন্তানরা
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২২ PM

রায়নগর হত্যাকাণ্ড

নিরপরাধ কেউ হয়রানি নয়, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চান সন্তানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ০২:৩২:৫১ PM

নিরপরাধ কেউ হয়রানি নয়, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চান সন্তানরা


রায়নগরে মিতালি আবাসিক এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের চার সন্তান। সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী চার সন্তান তাঁদের বাবা-মা ও পরিবারের এক কনিষ্ঠ গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরিফ ইফতেখার, তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু। তাঁদের মধ্যে আমেরিকাপ্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার পরিবারের লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডে তাঁদের পরিবার একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারজনই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকলেও সিলেট তাঁদের জন্মভূমি, শিকড় এবং সবচেয়ে কাছের মানুষদের ঠিকানা। একসঙ্গে তিন প্রিয়জনকে হারানোর শোক প্রতিনিয়ত তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বাবা-মাকে হারানোর অপূরণীয় বেদনার পাশাপাশি পরিবারের কনিষ্ঠ গৃহকর্মী মেয়েটির মৃত্যুও তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। এই ঘটনা তাঁদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে বলেও জানান নিহতদের সন্তানরা। তবে এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতেও দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার কথা জানান তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, দেশে আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে এ বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা প্রকাশ করে তাঁরা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ সময় নিহতদের সন্তানরা চারটি দাবি তুলে ধরে বলেন, প্রথম, তিনজনের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন, দ্বিতীয়, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, তৃতীয়, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখা এবং চতুর্থ, অপরাধীদের আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

তাঁরা আরও বলেন, তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একইভাবে কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ানো সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নিহতদের পরিবার। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সমবেদনার জন্য তাঁরা ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরিবারটি ভবিষ্যতেও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানায়।

এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। নিহতদের কোনো ছবি সংবাদ, অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ না করার আহ্বান জানান তাঁরা। পরিবারের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে মানবিকতা ও পারিবারিক অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে নিহতদের সন্তানরা বলেন, সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রাখা সম্ভব নয়। সত্য প্রকাশ পেতে সময় লাগলেও একদিন তা অবশ্যই সবার সামনে আসবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর