সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন পাঁচ যুবক। সেখান থেকে নৌপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এক মাস পর্যন্ত কারও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের আখল মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ টিপু (২৩), গন্ধর্বপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিব উল্লাহ (২৮), কলকলিয়া ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের ছালিক মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী (২০), সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের কুড়িকেয়ার গ্রামের মৃত আব্দুল কদ্দুছের ছেলে সায়েক মিয়া (২৪) এবং চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের জম্মাত আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫)।
স্বজনদের ভাষ্য, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দালালদের সঙ্গে ১২ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করেছিলেন এসব যুবকের পরিবার। কয়েকজন লিবিয়া পৌঁছানোর পর সেখান থেকে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এরপরই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ প্রায় পাঁচ মাস আগে ইছগাঁও গ্রামের আজিজ নামের এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যান। গ্রিসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ নেই।
হাবিবের বড় ভাই আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। দালালের কাছেও জানতে চেয়েছি, কিন্তু সেও কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না।’
জুয়েল আহমদ টিপুও একইভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে দিরাই উপজেলার এক দালালের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার চুক্তিতে লিবিয়া যান তিনি। গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে নৌযানে ওঠার পর তাঁর সঙ্গে আর পরিবারের যোগাযোগ হয়নি।
জুয়েলের মামা সাফি তালুকদার জানান, ৩ আগস্ট দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জুয়েলের শেষবার কথা হয়। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জুয়েলের মায়ের অবস্থাও ভালো নয় বলে জানান তিনি। তবে দালালের পক্ষ থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে, জুয়েল মিসরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবিত আছেন। কিন্তু এ দাবির পক্ষে পরিবারকে কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইউসুফ আলী ও সায়েক মিয়া একসঙ্গে লিবিয়া গিয়েছিলেন। গত ১ জুলাই চিলাউড়া গ্রামের করিম নামের এক দালালের মাধ্যমে ২৬ লাখ টাকার চুক্তিতে তাঁরা বাড়ি ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস আগে গ্রিসের উদ্দেশে নৌযানে ওঠেন দুজন। এরপর থেকেই তাঁদের কোনো সন্ধান নেই।
ইউসুফ আলীর বাবা ছালিক মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ও সায়েক একসঙ্গে লিবিয়া গিয়েছিল। একই সময় তারা নিখোঁজ হয়েছে। এক মাস ধরে দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।’
এদিকে চিলাউড়া গ্রামের রুবেল মিয়াও প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগহীন। তাঁর স্বজনেরা এখনো আশা করছেন, তিনি নিরাপদে আছেন এবং দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়া যাবে।
নিখোঁজ পাঁচ যুবকের পরিবারের দাবি, ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও এখন দালালদের কাছ থেকেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য মিলছে না। ফলে প্রিয়জনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দীন বলেন, নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁদের সন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








