লোডশেডিং সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান নেই : বাণিজ্যমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫০ AM

লোডশেডিং সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান নেই : বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/০৮/২০২৬ ০৪:২২:১৬ PM

লোডশেডিং সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান নেই : বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি : মো. সোহেল মিয়া


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেশের জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

বুধবার সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দুই-তিন দিন পরপর দুই থেকে চার ঘণ্টার যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার জন্য দায়ী বিগত ১৭ বছরের জবাবদিহিহীন শাসনব্যবস্থা। তিনি জানান, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা জাহাজে করে আনার পর গ্যাসে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মজুত ব্যবস্থা (স্টোরেজ) পর্যাপ্ত পরিমাণে গড়ে তোলা হয়নি অতীতে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কলকারখানা ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ সময়টিকে একটি ‘ট্রানজিশন টাইম’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই, বাস্তবে অবকাঠামো গড়ে তুলতেই সময় লাগবে।

আলোচনার শুরুতে মন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন একটি বিশাল গতি পেয়েছিল, যার ফলে একটি সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটে। তিনি বলেন, প্রায় ৫০-৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দুইবার গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য জেগে উঠেছে, যা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে এবং এই মেয়াদে ভালো কাজ করলেই কেবল তাদের প্রতি আস্থা নবায়ন হবে। এই জবাবদিহিতার ধারণাকেই তিনি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে, যাদের সম্মিলিত আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই সিলেটে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে, যার আয়তন হবে প্রায় ১৮৭ একর অর্থাৎ বিদ্যমান দুটি বিসিকের প্রায় ছয় গুণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, সিলেট-ঢাকা সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে, একই সময়ে শেষ হবে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগও। পাশাপাশি আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের কাজ শেষ হওয়ার সময়ই সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইনের কাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যাতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এই তারুণ্যশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট -৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমানসহ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসএমপির কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর