সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ভাটি অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা রানিগঞ্জ–হলিকোনা সড়কে বহুল প্রতীক্ষিত কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কয়েক কিলোমিটার অংশ নাজুক থাকায় বর্ষায় কাদা-পানি আর গ্রীষ্মে ধুলা ও গর্তের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রানিগঞ্জ বাজারে যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত ছিল। সড়কে কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করছেন তারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সমস্যার মাত্রা বেড়ে যেত বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের স্বার্থে সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেও অনেক পথচারী ও স্থানীয় যানবাহন চালক এখনও নির্দেশনা মানছেন না। সংশ্লিষ্টরা কয়েকদিন ধৈর্য ধরে চলাচল সীমিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে কাজটি মানসম্মতভাবে শেষ করা যায়।
স্থানীয় টমটম সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি শুধু একটি এলাকার জন্য নয়; এটি হলিকোনা, নাছনি, হাতিয়া, আকিল শাহ বাজার হয়ে দিরাই উপজেলায় পৌঁছায় এবং মারকুলি পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করে। ফলে বৃহত্তর এলাকার অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ সড়কের গুরুত্ব অনেক।
এ সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীদের দাবি, মারকুলি–রানিগঞ্জ রুটে বাস সার্ভিস চালু করা জরুরি। বর্তমানে ছোট গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, অনেক সময় যাত্রীদের গাড়ি পাওয়া যায় না। নিয়মিত বাস চলাচল শুরু হলে ভাটি অঞ্চল থেকে সবজি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন সহজ হবে বলেও জানান তারা।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, এক কিলোমিটার কাজ রেডি হয়েছে। এটা শেষ হলে বাকি কাজগুলোও প্রস্তুত করা হবে। রানিগঞ্জ বাজারের গোডামের রাস্তা থেকে শুরু হয়ে হলিকোনা বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার আরসিসি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো রাস্তাটাই আরসিসি হওয়া দরকার। ভবিষ্যতে ১২ ফুট প্রশস্ত করে আরসিসি করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে। কারণ এই রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের উপযোগী নয়।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








