‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’ শীর্ষক নবগঠিত কমিউনিটির যাত্রা
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ PM

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’ শীর্ষক নবগঠিত কমিউনিটির যাত্রা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: ২৩/০৫/২০২৬ ১২:১১:৪৫ AM

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’ শীর্ষক নবগঠিত কমিউনিটির যাত্রা


‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’ শীর্ষক নবগঠিত কমিউনিটি সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী হাইকমিশনার সাব্বির আহমেদ। তিনি সংগঠনের যাত্রা সফল কামনা করেন এবং ইতিবাচক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতু নির্মাণে অর্থবহ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করেন। 

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি'র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ইউ.কে চেয়ারম্যান মহসিন চৌধুরী নিম্নোক্ত দাবীসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে 

সহকারী হাই কমিশনের মাধ্যমে গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে আবেদন প্রদান করা হয়েছে | 

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ZYL) বিদেশি এয়ারলাইন্সের পূর্ণ কার্যক্রম চালু করা এই অঞ্চলের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এটি একটি "আন্তর্জাতিক" বিমানবন্দর, এর দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য আকাশ পুরোপুরি খুলে দেওয়া — যেমন , , ফ্লাইদুবাই, বা এয়ার অ্যারাবিয়া — কয়েকটি বিশাল কারণে গেম-চেঞ্জার।

১. বিমানের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে টিকিটের দাম কমানো:

দশকের পর দশক ধরে সিলেটের যাত্রীরা — বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্য বা মধ্যপ্রাচ্যে যান — প্রতিযোগিতার অভাবে আকাশছোঁয়া টিকিট মূল্যের সম্মুখীন হয়েছেন। যখন শুধু একটি এয়ারলাইন্স সরাসরি দূরপাল্লার রুট পরিচালনা করে, তখন তারাই দাম নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশি ক্যারিয়ার আসলে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের দাম কমায়, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ায়, এবং গ্রাহকসেবা ও নির্ভরযোগ্যতার মান উন্নত করতে বাধ্য করে।

২. বিশাল "লন্ডনী" প্রবাসীদের সেবা দেওয়া:

সিলেটের একটি অনন্য জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য আছে। সিলেট অঞ্চল থেকে উদ্ভূত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বিদেশে বসবাস করেন, যাদের বিশাল অংশ যুক্তরাজ্য — লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম — এবং মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত।

ট্রানজিটের বোঝা: বিদেশি ক্যারিয়ার সরাসরি সিলেটে না আসায়, হাজার হাজার প্রবাসীকে প্রথমে ঢাকায় নামতে হয়, ক্লান্তিকর লেওভার সহ্য করতে হয়, এবং তারপর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বা কষ্টকর সড়কযাত্রায় সিলেটে যেতে হয়।

সরাসরি, পূর্ণ কার্যকর বিদেশি ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসীরা নির্বিঘ্নে সরাসরি বাড়ি যেতে পারবেন, যা বয়স্ক যাত্রী এবং শিশুসহ ভ্রমণকারী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে জরুরি।

৩. ফ্রেশ কার্গো অপারেশনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা:

এই বিমানবন্দরের গুরুত্ব শুধু যাত্রী পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন। অঞ্চলে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং পরিবর্তিত ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়মের পর, বাংলাদেশ সিলেট থেকে সরাসরি কার্গো ফ্রেইটার চালু করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

সিলেট পচনশীল পণ্য রপ্তানির জন্য বিখ্যাত — যেমন চা, সাইট্রাস ফল — সাতকরা, লেবু — পানপাতা, এবং তাজা মাছ ইউরোপ ও আমেরিকায় পাঠায়।

বিশাল বৈশ্বিক কার্গো নেটওয়ার্ক আছে এমন বিদেশি মেগা-ক্যারিয়ারদের সিলেট থেকে অবাধে পরিচালনা করতে দিলে স্থানীয় কৃষক ও গার্মেন্টস রপ্তানিকারকরা ঢাকার প্রায়শই যানজটপূর্ণ কার্গো ভিলেজের উপর নির্ভর না করে দ্রুত, সস্তায় বিশ্বব্যাপী পণ্য পাঠাতে পারবেন।

৪. ঢাকার (HSIA) উপর চাপ কমানো:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অতিরিক্ত যানজটের চাপে আছে, প্রায়ই মূল নকশার চেয়ে বেশি যাত্রী ও কার্গো ভলিউম সামলাতে হয়। সিলেটকে ঢাকা থেকে বিকেন্দ্রীকৃত একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন আন্তর্জাতিক হাবে উন্নীত করলে দেশের এভিয়েশন ট্রাফিক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি অবস্থা বা পিক ট্রাভেল সিজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট তৈরি হয়।

৫. সিলেটের পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা উন্মোচন:

সিলেট "দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ" নামে পরিচিত, যা সবুজ চা বাগান, টিলা, এবং হাওরের জন্য বিখ্যাত। এর বিশাল ইকো-ট্যুরিজম সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ণ আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকলে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের জন্য সরাসরি অঞ্চলটি ভ্রমণ করা অনেক সহজ হয়, যা সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করে।

এই ব্যাপারে কমিউনিটি সর্বাত্বক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ মিমো

সিলেটজুড়ে


মহানগর