নীতিমালা না বদলালে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০১ PM

পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার

নীতিমালা না বদলালে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/০৩/২০২৬ ০৪:৪৩:৪৪ PM

নীতিমালা না বদলালে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত


নগরীতে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীকে হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনার জেরে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) প্রণীত নতুন বিপণন নীতিমালা সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানান পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকাল থেকে এ ধর্মঘট চলমান ছিল। পরে হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ও পাম্পের কর্মরত শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে সোমবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে দুপুর দুইটার পর থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়েছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে, যেখানে গত বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, তার গড়ের ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তাদের অভিযোগ, মাসকে ৩০ দিন ধরে গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে মাসে ২০–২২ দিন তেল উত্তোলন করা হয়। এর পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে দৈনিক কোটা বেঁধে দেওয়ায় পাম্পগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কমিশনের হিসাব মিলছে না।

সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয়। দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

পাম্প মালিকদের ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।

তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম।

নেতারা জানান, নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তারা আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।

গতাকল সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

এদিকে হামলার পর এক জরুরি বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। সেই বৈঠকেই ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর