বিশ্বনাথে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির, ব্যাহত হবে উৎপাদন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ PM

বিশ্বনাথে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির, ব্যাহত হবে উৎপাদন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/০৩/২০২৬ ১২:১৯:১২ PM

বিশ্বনাথে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির, ব্যাহত হবে উৎপাদন


চরম খরার কবলে পড়েছে বিশ্বনাথ উপজেলার বোরো ধানের জমি। খাল-বিলে পানি না থাকায় সেচের ব্যবস্থা নেই। উপজেলার কোনো হাওরে নেই ভূগর্ভস্থ সেচের ব্যবস্থাও। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বোরো মৌসুম শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহাজারি হাজার হাজার কৃষকের। অনাবৃষ্টির কারণে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধান আবাদ বেড়েছে ২৫ হেক্টর। ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হবে না- এমন বক্তব্য তুলে ধরছেন কৃষকেরা। বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা অবস্থা বলছে, কৃষকদের আশঙ্কাই সত্যি হবে। দেখা গেছে, অনাবৃষ্টিতে ধানের চারা জ্বলে গেছে বিভিন্ন হাওরের আবাদ জমিতে।

এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৩শ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হেক্টর বেশি। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস এ বছর উপজেলার বোরো আবাদে জড়িত ৪শ কৃষকের মাঝে ২ কেজি করে বোরো বীজ, ৪২০ জন কৃষককে ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।

উপজেলার হাওরগুলোতে আবাদকৃত বোরো ধানের মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি ৯২, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪ ও ব্রি ১০৫। আছে হাইব্রিড এসএল-৮এইচ, হিরা, জাগরণ, শক্তি, যুবরাজ, গোল্ডেন-১, তেজ, এসিআই -১ ও এসিআই-২ জাতের বোরো ধান। রয়েছে স্থানীয় জাতের রোপা বোরো ধানও।

চলতি বছর বোরো ধানে রোগবালাই না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। তবে যান্ত্রিক খরচাপাতি, বাড়তি সারের দাম ও শ্রমিক সংকট থাকায় বোরো উৎপাদনে ব্যয় বাড়ছে অন্যান্য বছরের তুলনায়। এ বছর এমন অভিযোগ স্থানীয় প্রান্তিক, যৌথ ও বর্গাচাষিদের। দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে লোকসানে পড়বেন কৃষকরা- এমন আশঙ্কার কথাও জানান তাঁরা।

বিশ্বনাথ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। যদিও অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টি হলে সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা ও বালাই দমন ব্যবস্থাপনা সঠিক নিয়মে করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর